বিশ্ব

ভারতে আন্দোলনকারীদের পানি-খাবার দেওয়ায় জুনায়েদের পরিবারকে আটক ও হয়রানি

দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে খাবার ও পানি বিতরণ করা মোহাম্মদ জুনায়েদ ও তার পরিবারের সদস্যদের আটক ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। তবে নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ এবং ব্যাপক সমালোচনার পর আইনজীবীদের তৎপরতায় জুনায়েদ ও তার পরিবার মুক্তি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

জুনায়েদের আইনজীবী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানান, জুনায়েদ ও তার পুরো পরিবারকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। পরিবারের এক সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, তারা এখন সম্পূর্ণ মুক্ত।

জুনায়েদের অভিযোগ, গত শুক্রবার রাতে কুকুরের কামড়ের চিকিৎসা শেষে দিল্লির আরএমএল হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে সাধারণ পোশাকে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের দিল্লি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে তাকে আটক করেন। এরপর তার চোখ বেঁধে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। সারারাত আটকে রাখার পর পরদিন সকালে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আন্দোলনকারীদের জন্য বিতরণ করা খাবার ও পানির অর্থের উৎস সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের অনুদান এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের পাঠানো খাবারই আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে উত্তরাখণ্ডের মুসৌরির একটি নির্জন এলাকায় ফেলে রেখে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে ট্যাক্সি ভাড়া করে দিল্লিতে ফেরেন।

জুনায়েদের অভিযোগ, তাকে আটকের পাশাপাশি উত্তর প্রদেশ পুলিশ গাজিয়াবাদের মাসুরিতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বাবা মুস্তফাকে আটক করে। এ সময় তাদের প্যান কার্ড, ব্যাংকের পাসবইসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জব্দ করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

এছাড়া মিরাটে তার বোনের বাড়িতে গিয়ে ভগ্নিপতি ও শ্বশুরকে আটক করে জুনায়েদকে দিল্লি থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে মিরাট পুলিশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, জুনায়েদের পরিবারের কাউকে আটক করা হয়নি।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটসের (এপিসিআর) গাজিয়াবাদ ও মিরাট শাখা জুনায়েদের পরিবারের পাশে দাঁড়ায়। সংগঠনটি তাদের আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়ে মাসুরি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হরেন্দ্র মালিকের সঙ্গে বৈঠক করে।

এপিসিআর এক বিবৃতিতে জানায়, জুনায়েদের পরিবারের বিরুদ্ধে বেআইনি পদক্ষেপ বন্ধ না হলে তারা আদালতের দ্বারস্থ হবে এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মানবাধিকার সংগঠনটির কড়া হুঁশিয়ারির পরই জুনায়েদ ও তার পরিবারের সদস্যদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

source: Daily Amar Desh

Leave a Reply

Back to top button