কাউকে আগামীতে জুলুম করতে দেওয়া হবে না: সারজিস আলম

আগামীতে দেশে আর কাউকেই কোনো ধরনের জুলুম-নির্যাতন বা অন্যায় করতে দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় হুঁশিয়ারি ব্যক্ত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিগত আন্দোলনের সহযোদ্ধা হওয়ার দোহাই দিয়ে কেউ যদি এখন জনগণের ওপর নতুন করে জুলুম করার চেষ্টা করে, তবে হাজার হাজার প্রতিবাদী কণ্ঠ তাদের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে এসে প্রতিহত করবে। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত ‘বিচার, সংস্কার ও দেশ পুনর্গঠন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারি অফিসগুলোতে বিরাজমান রাজনৈতিক প্রভাব এবং দখলের অপচেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, থানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়, ভূমি অফিস ও সরকারি হাসপাতালগুলো কেবল জনগণের সেবা নিশ্চিত করার কেন্দ্র। এসব সংস্থায় দলীয় অপব্যবহার বা দখলদারিত্ব শুরু হলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা, শিক্ষাসহ সার্বিক সেবা ব্যবস্থাপনা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা শেষ পর্যন্ত কাউকেই রেহাই দেবে না।
রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ অসাধু চক্রের কঠোর সমালোচনা করে এনসিপি নেতা মন্তব্য করেন, যেকোনো একটি দলের বিশালসংখ্যক নেতাকর্মীর মধ্যে অল্প কিছু অসাধু লোকই মূলত চাঁদাবাজি, লুটপাট এবং সরকারি সম্পদের অর্থ আত্মসাতে লিপ্ত থাকে। গুটি কয়েক অপরাধী ও সুযোগ সন্ধানীর জন্য পুরো দলের বা সাধারণ সমর্থকদের দায়ভার নেওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না। তাই দলটির ত্যাগী কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি এদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে বলেন, যেন আওয়ামী লীগের মতো অপকর্মের পরিণতি অন্য কাউকে ভোগ করতে না হয়।
অনুষ্ঠানে প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য বিশেষ আহ্বান জানান সারজিস আলম। দলীয় আনুগত্য দেখিয়ে সিস্টেম ধ্বংস করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতে যেসব প্রশাসন সদস্য একটি নির্দিষ্ট দলের তল্পিবাহক হয়ে অন্যায়কে প্রশ্রয় দিয়েছিল, গণঅভ্যুত্থানের পর আজ তারা লজ্জিত ও পলাতক। তাই ভবিষ্যতে দেশ ও নিজের পরিবারের কাছে মাথা উঁচু করে থাকতে প্রশাসনকে স্বাধীন ও জনবান্ধব হিসেবে কাজ করার জোর তাগিদ দেন তিনি।
উক্ত জনসভায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকরাম হোসেন এবং ফয়সাল প্রিন্সসহ দলটির জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। সমাবেশ শেষে এনসিপির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলটি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ ও জেলা সদরে আয়োজিত আরও দুটি পৃথক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগদান করে।
source: Azadir Dak