জাতীয়

কওমি মাদরাসার মর্যাদা রক্ষায় শায়খ আহমাদুল্লাহর ৬ প্রস্তাব

ইসলামিক স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম ও দায়িত্বশীল মুরব্বিদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন,

‘বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম ও দায়িত্বশীল মুরব্বিদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান

আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

মুহতারাম ওলামায়ে কেরাম ও শ্রদ্ধেয় মুরব্বিয়ানে কেরাম,

আজ অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আপনাদের সমীপে এই আরজ পেশ করছি। আপনারা নিশ্চয় লক্ষ করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কওমী মাদরাসা নেতিবাচকভাবে সংবাদের শিরোনাম হচ্ছে। একজন কওমী মাদরাসার সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে এই দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাবমূর্তি ও ঐতিহ্য রক্ষায় উদ্যোগী হওয়ার প্রয়োজন বোধ করছি।

সম্মানিত ওলামায়ে কেরাম,

সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মনন গঠনে কওমী মাদরাসার ভূমিকা অনস্বীকার্য। যুগ যুগ ধরে এই শিক্ষাব্যবস্থা এদেশের সাধারণ মানুষের হৃদয়ে ধর্মীয় শিক্ষার আলো ও নৈতিক মূল্যবোধের চেতনা ছড়িয়ে আসছে এবং সৎ, নীতিবান ও আদর্শ নাগরিক তৈরি করতে দারুণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে কওমী মাদরাসা কেবল কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমষ্টি নয়, বরং এটি এদেশের অবহেলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্যতম সামাজিক নিরাপত্তা বলয়। রাষ্ট্রীয় কোনো অনুদান বা বাজেট ছাড়াই সম্পূর্ণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত দানে এই প্রতিষ্ঠানগুলো ‘লিল্লাহ বোর্ডিং’ ও এতিমখানার মাধ্যমে লাখ লাখ এতিম, দুস্থ ও অসহায় শিশু-কিশোর-যুবকের অন্ন, বস্ত্র, আবাসন ও চিকিৎসার সম্পূর্ণ ভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে। এর ফলে একদিকে রাষ্ট্র এক বিশাল সামাজিক ও অর্থনৈতিক বোঝা থেকে মুক্ত হচ্ছে। অন্যদিকে দ্বীনি পরিবেশ, নৈতিক ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষায় আগ্রহী মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারের আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

source: Daily Amar Desh

Leave a Reply

Back to top button