News

ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিতে সরকারকে সময় বেধে দিল ইনকিলাব মঞ্চ

ইনকিলাব মঞ্চের লোগো এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদি© সংগৃহীত ও সম্পাদিত
শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আগামী ১৩ ডিসেম্বর থেকে রাজধানীর শাহবাগে জমায়েত শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। একই সঙ্গে ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে সরকারকে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। 
 
গতকাল শনিবার (৮ আগস্ট) কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জ এলাকায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইনকিলাব মঞ্চ আয়োজিত ‘জুলাইয়ের বিজয়গাথা ও বাংলাদেশপন্থি সংস্কৃতির নবসূচনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন আবদুল্লাহ আল জাবের।
 
সংগঠনটির আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের গণমাধ্যমকে বলেন, ‘‘শহীদ ওসমান হাদির বিচার করবে কি করবে না, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারকে একটা ফয়সালায় আসতে হবে। সরকারকে বলতে হবে, আমি বিচার করব অথবা করব না। এর মাঝখানে প্যাঁচানো-ট্যাঁচানো কোনো ধরনের আলাপ আমরা শুনব না।”
 
তিনি বলেন, “হাদি ভাই কেন বলে গেছেন, আমাকে যদি মেরে ফেলা হয়, বিচারটা করবেন? তিনি নিজের জন্য এই বিচার চাননি। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য এই বিচার চেয়েছেন।”
 
তিনি আরও বলেন, হাদির হত্যার বিচার হলে হাদি ব্যক্তিগতভাবে কী পাবেন? তিনি তো মারা গেছেন, শহীদ হয়েছেন। তিনি কেন বলে গেছেন, তাকে মেরে ফেলা হলে বিচার করতে হবে। এই বিচার তিনি নিজের জন্য চাননি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য এই বিচার চেয়েছেন। শরিফ ওসমান হাদির হত্যার সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সম্পর্ক রয়েছে। তাই হাদির হত্যার বিচার বাংলাদেশে হতেই হবে। শুধু ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বিচার হয় না। আন্দোলনের জন্য গোছানো পরিবেশ দরকার।
 
হাদির হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন না হলে মানুষ দীর্ঘদিন ‘ডিপ স্টেট’সহ নানা তথ্যের বাঁকে ঘুরপাক খেতে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক।
 
আন্দোলনের পরিকল্পনা তুলে ধরে জাবের বলেন, “ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ১৩ ডিসেম্বর থেকে শাহবাগে জমায়েত শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারকে এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সরকারের বর্তমান অবস্থায় খুব একটা আশা দেখছেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সেই জায়গা থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ইনশাআল্লাহ ৬৪ জেলা সফর করব। ঢাকায় স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জমায়েত হবে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে।”
 
অনুষ্ঠানে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের ছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন কাশীদার লিড ভোকালিস্ট আহমেদ আতাউল্লাহ সালমান, ইনকিলাব মঞ্চের সার্চ কমিটির সদস্য ও অভিনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ, সার্চ কমিটির সদস্য ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক এবং অ্যানালিস্ট ডা. মো. আরিফ মোর্শেদ খান।
 
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুতাসিম বিল্লাহ এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মশিউর রহমান। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক রাশেদুল ইসলামসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্রনেতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
 

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button