নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলায় ছাত্রদলের ১০ নেতাকর্মী হাসপাতালে

সাতক্ষীরায় একটি অডিও কল রেকর্ডের প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পীর ওপর ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই হামলায় বাপ্পীসহ ছাত্রদলের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন, যেখানে বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন ঘোনা গ্রামের বকুল হায়দারের ছেলে ও জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পী, তাঁর বড় ভাই রাজিব হোসেন, একই এলাকার আব্দুর রকিব, বকুল হায়দার, জাহিদ হাসান, ঝিটকি গ্রামের ছাত্রদল নেতা সালাম, রহিচপুর গ্রামের তহিদুল হোসেন এবং মাহামুদুল হাসান।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মনজুরুল আলম বাপ্পী জানান, শনিবার রাতে ঘোনা এলাকার ছাত্রলীগ নেতা নাজমুলের একটি অডিও কল রেকর্ড তাঁদের হাতে আসে। ওই রেকর্ডে ছাত্রদলের এক শীর্ষ নেতা ও বিএনপিকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এই বিষয়টি সম্পর্কে জানতে ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন নয়ন ওই ছাত্রলীগ নেতার কাছে গেলে তাঁকে আটকে রাখা হয়।
বাপ্পী আরও অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতিকে আটকে রাখার খবর পেয়ে তিনি ও বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে যান। এ সময় স্থানীয় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাঁশের লাঠি এবং লোহার রড নিয়ে তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বেধড়ক মারধর করে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে দৃশ্যমান আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এলাকায় নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কল রেকর্ড নিয়ে বিরোধের জেরে ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা মো. নাজমুল হাসান ও তাঁর বাবা লাল্টু মেম্বারের নেতৃত্বেই মূলত এই হামলা চালানো হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
এই ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দুদায়েভ মাসুদ অর্ঘ এবং জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাহিদ হাসান ডাবলু। তাঁরা অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসররা এখনো মাঠপর্যায়ে সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে। অবিলম্বে এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হামলার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
source: Azadir Dak