News

প্রকাশ্যে ফেলানীর কাফনে মোড়ানো ছবি, স্মৃতি জাদুঘরে পুনঃস্থাপনের দাবি

ফেলানীর কাফনে মোড়ানো ছবি© সংগৃহীত

প্রথমবারের মতো ভারতীয় বিএসএফ কর্তৃক নৃশংসভাবে হত্যার শিকার ফেলানী খাতুনের ছবি সামনে এনেছেন আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। যা ফের আলোচনায় এনেছে ভারতীয় বাহিনীর সীমান্ত হত্যার বিষয়টিকে। একইসঙ্গে এই স্মৃতিচিহ্ন পুনঃস্থাপনের দাবি করেন তিনি।

রবিবার (৯ আগস্ট) জুলকারনাইন সায়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এই ছবি সামনে আনেন। তিনি লেখেন, “ফেলানীর লাশের মুখ হয়তো আপনারা অনেকেই কখনো দেখেননি। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নিহত ১৫ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি কিশোরীর লাশের কফিন তাঁর পরিবার যেভাবে গ্রহণ করেছিল, সেই ছবি আজ আপনাদের জ্ঞাতার্থে প্রকাশ করছি।”

তিনি আরও বলেন, “পতিত স্বৈরাচার গোষ্ঠী গত দেড় যুগ ধরে ভারতের সহায়তায় কীভাবে দানবে পরিণত হয়েছিল, তা নিশ্চয়ই বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে ফেলানীর প্রতি সম্মান ও সীমান্তে ভারতের নির্বিচার হত্যার বিভিন্ন দালিলিক প্রমাণ কাদের মদদে সরিয়ে ফেলা হয়েছে? অনতিবিলম্বে ফেলানী ও সীমান্ত হত্যার শিকার অন্যান্য বাংলাদেশিদের স্মৃতির সম্মানে স্থাপন করা সকল চিহ্ন পুনঃস্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।”

প্রসঙ্গত,২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক ১৫ বছর বয়সী বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানী খাতুনকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যার ঘটনা, যার লাশ প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা কুড়িগ্রাম সীমান্তে কাঁটাতারে ঝুলে থাকার ছবি বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। এই হত্যাকাণ্ডের পর বিএসএফের বিশেষ আদালত ২০১৩ ও ২০১৫ সালে প্রধান অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে দুবার খালাস দিলে তা চরম আইনি প্রহসনে রূপ নেয়, যার বিরুদ্ধে ফেলানীর বাবা ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করলেও দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে তা ঝুলে রয়েছে। 

এই নির্মম ঘটনার পর আন্তর্জাতিক চাপে বিএসএফ সীমান্তে অমারাত্মক অস্ত্র (নন-লেথাল উইপন) ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিলেও ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনা বন্ধ হয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশে ফেলানীর নাম সীমান্ত সহিংসতার বিরুদ্ধে এক স্থায়ী প্রতিবাদের প্রতীকে পরিণত হয়েছে এবং তার পরিবার এখনো আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে মেয়ের হত্যার দৃষ্টান্তমূলক ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষা করছে। 

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button