News

হাসিনা প্রশ্নে থমকে আছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে আটকে আছে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ। তাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন দিল্লি সফরের সম্ভাবনাও নতুন করে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরের মতভেদ ঢাকার ভারত-নীতিকে স্থিতিশীল হতে দিচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দুই দেশের বিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে দ্রুত ফেরত পাঠানোর এবং শরীফ ওসমান হাদীর সন্দেহভাজন খুনিদের হস্তান্তর করার দাবি জানিয়েছে। ঢাকার ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের জন্য একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি করতে এই পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত জরুরি।

আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে বা সেপ্টেম্বরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরের বিষয়ে দুই সরকারের মধ্যে আলোচনা চলছিল। তবে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং গত ৫ আগস্ট ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে হাসিনার রাজনৈতিক তৎপরতা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বাংলাদেশ সরকার ভারতকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, শেখ হাসিনাকে এমন মন্তব্য করা থেকে বিরত রাখতে হবে যা অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব ফেলে।

এদিকে ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গড়ে ওঠা টানাপড়েন এখন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সঙ্গেও জড়িয়ে গেছে। জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া উচিত নয়। ফলে রাজনৈতিক চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একদিকে ভারতের সঙ্গে কার্যকারী সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ কঠোর অবস্থানের চাহিদাও সামলাতে হচ্ছে।

তবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে তারেক রহমানের ভারত সফরের ওপর জোর দিয়ে আসছেন এবং ইতিপূর্বে তাঁর সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। বেশ কয়েকটি অমীমাংসিত দ্বিপক্ষীয় বিষয়, যেমন—অভিবাসন, পানিবণ্টন এবং ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়গুলো সহযোগিতার স্বার্থে সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও কৌশল ঠিক করাই এখন ঢাকার মূল চ্যালেঞ্জ।

source: Azadir Dak

Back to top button