মিমি হত্যার রহস্য উদঘাটন করল পিবিআই, উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

জামালপুর শহরের পশ্চিম নয়াপাড়া এলাকায় ইশরাত জাহান মিমি হত্যার কারণ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারকৃত কাউসার আহমেদ খানের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পিবিআই জানিয়েছে, সম্পর্কের টানাপোড়েন, গোপন ভিডিও এবং টাকা দাবিকে কেন্দ্র করে মিমিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় জামালপুর শহরের জিয়া কলেজ মোড় এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।
পিবিআই জানায়, ঘটনার দিন ২২ আগস্ট মিমি কাউসারকে তাঁর ভাড়া বাসায় ডেকে নেন। সেখানে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে মিমি কাউসারের স্ত্রীকে ফোন করেন। তাঁদের সম্পর্কের কথা জানিয়ে দেন। এ সময় কাউসার তাঁর সঙ্গে আছেন বলেও স্ত্রীকে জানান মিমি।
স্ত্রীকে ফোনে কথা বলানো নিয়ে মিমির সঙ্গে কাউসারের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে কাউসার মিমির গলা চেপে শ্বাসরোধ করেন। এতে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান কাউসার।
পিবিআইয়ের দাবি, গ্রেপ্তারের পর কাউসার ১৬১ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই জানায়, প্রায় তিন বছর আগে কাউসারের রাফি স্টোরে কেনাকাটার সূত্রে মিমির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে বকেয়া টাকা পরিশোধের কথা বলে মিমি কাউসারকে তাঁর বাসায় ডেকে নেন। সেখানে তাঁদের শারীরিক সম্পর্ক হয়। ওই সম্পর্ক গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন কাউসার।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ভিডিও ব্যবহার করে কাউসারকে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করা হতো। একপর্যায়ে কাউসার তাঁর সঞ্চিত অর্থও মিমির পেছনে ব্যয় করেন। শুধু তা-ই নয়, জমি এবং মা ও স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রি করে পাওয়া অর্থও তিনি মিমিকে দিয়েছেন বলে জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।
পিবিআই আরও জানায়, মিমি কাউসারকে ইয়াবা সেবনে আসক্ত করার চেষ্টা করতেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলার জন্য কাউসারকে চাপ দিতেন। এসব বিষয় নিয়ে একপর্যায়ে তাঁদের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়।
এর মধ্যেই ঘটনার দিন মিমি কাউসারকে তাঁর ভাড়া বাসায় ডাকেন। সেখানে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। টাকা চাওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে মিমি কাউসারের স্ত্রীকে ফোন করে তাঁদের সম্পর্কের কথা জানিয়ে দেন। এ সময় কাউসার তাঁর সঙ্গে আছেন বলেও জানান। স্ত্রীকে ফোনে কথা বলানো নিয়ে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কাউসার মিমির গলা চেপে ধরেন। এতে শ্বাসরোধ হয়ে মিমির মৃত্যু হয়। পরে কাউসার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
এদিকে গত ২৩ আগস্ট সকালে জামালপুর শহরের পশ্চিম নয়াপাড়া রেলগেটসংলগ্ন বাবুল মিয়া বিল্ডিংয়ের পঞ্চম তলার পূর্ব পাশের একটি কক্ষ থেকে মিমির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে পিবিআই জামালপুরের ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। পরে তারা ছায়াতদন্ত শুরু করে।
এ ঘটনায় মিমির মা মুক্তা বেগম বাদী হয়ে জামালপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় কাউসার আহমেদ খানসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করা হয়।
পরে মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই জামালপুর গ্রহণ করে।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২৪ আগস্ট বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে জামালপুর সদর উপজেলার বাগেরহাটা এলাকা থেকে কাউসার আহমেদ খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
গ্রেপ্তারকৃত কাউসার আহমেদ খানের বয়স ৩৬ বছর। তিনি বাগেরহাটা এলাকার মৃত রফিক খানের ছেলে।
পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত পিপিএম বলেন, ‘সাক্ষ্য-প্রমাণ, পারিপার্শ্বিক তথ্য-উপাত্ত ও আসামির জবানবন্দি পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত নিরপেক্ষ ও আইনানুগভাবে সম্পন্ন করে দ্রুত পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’
পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। মামলার তদন্তও চলছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
source: The Daily Campus