সরকারি কর্মকর্তাদের পেনশনের প্রায় ৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ, অডিট কর্মকর্তা ইশরাত বরখাস্ত

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের হিসাবে পেনশন ও ভাতাদি-সংক্রান্ত বকেয়া বিলের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬ কোটি ৬৮ লাখ ৭০ হাজার ৯২৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে অডিট অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ইশরাত জাহানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ইশরাত জাহান বর্তমানে চিফ কন্ট্রোলার ডিফেন্স ফাইন্যান্সের আর্মি জেসিও অ্যান্ড ওআর কার্যালয়ে উপসহকারী ফাইন্যান্স কন্ট্রোলার (ডিএএফসি) পদে কর্মরত। এর আগে তিনি প্রতিরক্ষা অর্থ বিভাগে (ডিফেন্স ফাইন্যান্স) একই পদে কর্মরত ছিলেন।
এ বিষয়ে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (সিএজি) কার্যালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বকেয়া পেনশন ও সরকারি পেনশন ব্যবস্থাপনার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম আইবাস++ এর মাধ্যমে প্রায় ৬ কোটি ৬৮ লাখ ৭০ হাজার ৯২৮ টাকা পরিশোধ ও আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটি তদন্ত করে জানতে পারে, ইশরাত জাহান তার নিজস্ব আইবাস++ ইউজার আইডি ব্যবহার করে পেনশন ও ভাতাদি সংক্রান্ত বকেয়া বিলের বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২৬ জন পেনশনারের ৩৪৬টি বকেয়া পেনশন বিল বাবদ মোট ৬ কোটি ৬৮ লাখ ৭০ হাজার ৯২৮ টাকা বিধিবহির্ভূতভাবে পরিশোধ করেছেন।

প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে ওই অর্থ বিধিবহির্ভূতভাবে পরিশোধের জন্য ইশরাত জাহানকে সম্পূর্ণভাবে দায়ী করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২ সেপ্টেম্বর থেকে তার সাময়িক বরখাস্ত কার্যকর হয়েছে। বরখাস্তকালীন তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা (সাবসিস্ট্যান্স গ্র্যান্ট) পাবেন।
তবে এটি প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে নেওয়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা। অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি পরবর্তী তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবে বলে জানানো হয়েছে ওই প্রজ্ঞাপনে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ইশরাত জাহান আগে চিফ কন্ট্রোলার ডিফেন্স ফাইন্যান্সের (পেনশন ও ফান্ড) কার্যালয়ে ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ফাইন্যান্স কন্ট্রোলার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি চিফ কন্ট্রোলার ডিফেন্স ফাইন্যান্সের আর্মি জেসিও অ্যান্ড ও আর কার্যালয়ে একই পদে কর্মরত।
প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কন্ট্রোলার জেনারেল ডিফেন্স ফাইন্যান্স, সিএজি কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ফর্মস ও প্রকাশনা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি পরবর্তী গেজেটে প্রকাশের জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।
source: Asia Post