News

১৫ বছরের অপরিকল্পিত ঋণ ও প্রকল্পের দায় বর্তমান সরকারকে বইতে হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

সংসদ অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী© ফাইল ছবি
বিগত ১৫ বছরের শাসনামলে নেওয়া অপরিকল্পিত ঋণ ও ১৩০০ প্রকল্পের বিশাল দায়ভার বর্তমানে সরকারকে বইতে হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
 
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানুর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
 
রেহানা আক্তার রানু তার প্রশ্নে বলেন, বর্তমান ঋণের ৭৮ শতাংশই নেওয়া হয়েছে ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তারা দেশি-বিদেশি উৎস থেকে সাড়ে ১৫ লাখ কোটি টাকার বেশি নতুন ঋণ নিয়েছিল এবং তা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে।
 
এসব ঋণের বিপরীতে নেওয়া প্রকল্পগুলোর অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত করা হয়েছে কি না, জানতে চান তিনি। জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে নেওয়া ঋণের বিশাল দায় আজকে বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে।  পূর্ববর্তী সরকারের নেওয়া প্রকল্পগুলোর মূল্যায়ন চলছে এবং এর ভিত্তিতে অনেক প্রকল্প বাতিল করা হচ্ছে।
 
ওই অল্প সময়ে নেওয়া এত ঋণ দেশের অর্থনীতির ওপর যে চাপ সৃষ্টি করেছে, তার রি-পেমেন্ট (পরিশোধ) করতে গিয়ে বর্তমান সরকারকে অত্যন্ত কঠিন সময় অতিক্রম করতে হচ্ছে।
 
বিগত সরকারের প্রকল্পগুলোর সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চারটি বিষয়—‘ভ্যালু ফর মানি’, ‘রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট’, ‘জব ক্রিয়েশন’ এবং ‘এনভায়রনমেন্টাল কনসিডারেশন’ মানা উচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিগত সরকার তাদের বেশিরভাগ প্রজেক্টে এর কোনোটিই অনুসরণ করেনি।
 
বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং সেক্টর ও শেয়ার বাজারে যে লুটপাট হয়েছে তার দায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব—সব মিলিয়ে আমরা একটি কঠিন সময় অতিক্রম করছি। তবে আমরা আশাবাদী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সরকার যখনই এমন সংকটের সম্মুখীন হয়েছে, দেশকে উদ্ধার করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে ভিশন রয়েছে, তা নিয়ে আমরা ইনশাআল্লাহ এগিয়ে যাচ্ছি।
 
প্রকল্পগুলোর তদন্ত প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, আমাদের মাথার ওপর ১৩০০ প্রজেক্ট চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রত্যেকটি প্রজেক্টের আলাদা ইভ্যালুয়েশন (মূল্যায়ন) করছি। অনেকগুলোর মূল্যায়ন প্রায় শেষের দিকে। এই মূল্যায়নের মাধ্যমে আমরা অনেক প্রজেক্ট বাদও দিচ্ছি। তবে কিছু প্রজেক্ট শেষ প্রান্তে চলে আসায় সেগুলো শেষ না করেও উপায় নেই। আগামী দিনে আমরা যে বিনিয়োগগুলো করব, তার রিটার্ন বাংলাদেশের মানুষ পাবে।

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button