News

সৌদির সামরিক ঘাঁটিতে হুতির হামলার দাবি

ইয়েমেনে সরকারপন্থী বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেই দক্ষিণ সৌদি আরবের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে হুতিরা।

হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, দক্ষিণ সৌদির শারুরাহ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। তার দাবি, হামলায় ঘাঁটির অস্ত্রভাণ্ডার এবং ‘আগ্রাসন পরিচালনাকারী’ কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তবে হামলাটি ঠিক কোন তারিখে চালানো হয়েছে, তা তিনি উল্লেখ করেননি।

এদিকে সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীও হুতিদের বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করেছে। শনিবার স্থানীয় সময় তারা লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোকায় হুতি যোদ্ধাদের ওপর হামলার কথা জানায়। পরে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আরও কয়েকটি হুতি অবস্থানে হামলা চালানো হয়েছে বলে সরকারি বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ

হুতিদের সঙ্গে সংঘাত ঘিরে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চেয়েছে বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত সপ্তাহে দুই দফায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলার অনুরোধ করেন।

রয়টার্সকে তিনটি সূত্রও জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় যুবরাজ ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং মার্কিন সামরিক সহায়তা চান। তবে ওয়াশিংটন আপাতত সরাসরি সংঘাতে না জড়িয়ে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে।

শনিবার ট্রাম্পও সৌদি যুবরাজের সঙ্গে তার ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, হুতিরাও তার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সংঘাতে না জড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে।

লোহিত সাগরের উপকূলে হুতিদের অগ্রগতি

গত এক সপ্তাহের হুতি অভিযানে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের অবশিষ্ট অংশ এবং কয়েকটি কৌশলগত দ্বীপ তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর ফলে সমুদ্রপথের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হয়েছে।

ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল পরিবহন অনেকটাই ব্যাহত করার পর বাব আল-মান্দেব সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সম্প্রতি হুতিরা সৌদি আরবের লোহিত সাগরীয় বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে নিজেদের ‘সামুদ্রিক অবরোধ’ ঘোষণা করেছে।

ইয়েমেনের সরকারি বার্তা সংস্থা সাবা জানিয়েছে, মোচা বন্দরের কাছে সরকারি বাহিনীর হামলায় হুতিদের বেশ কয়েকটি যান ও অস্ত্র ধ্বংস এবং কয়েকজন যোদ্ধা নিহত হয়েছে। হুতিদের পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি বিমানবাহিনী ১২৯টি বিমান হামলা চালিয়েছে।

শনিবার রাতে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, হুতিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সীমান্তবর্তী একটি এলাকায় পড়ে। এতে দুইজন আহত হওয়ার পাশাপাশি একটি মসজিদ, কয়েকটি ভবন ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নতুন করে সংঘাতে ৫০০ জনের বেশি নিহত

ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ শুরু হয় ২০১৪ সালে, যখন হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে। ২০২২ সালে একটি যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়েছিল। তবে জুলাই থেকে আবারও বড় আকারে লড়াই শুরু হয়েছে।

সৌদি আরব ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন করে যুদ্ধে সরাসরি যুক্ত হয়। বর্তমানে দেশটি এডেনভিত্তিক সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।

নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর আরও বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বৃহস্পতিবার মোকা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর অনেক বাসিন্দা এডেনের দিকে পালিয়ে যান। বাস্তুচ্যুতদের একজন আবদুলালি আল-রাজিহি জানান, হুতিরা বাসিন্দাদের মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, জুলাই থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ সংঘাতের কারণে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। গত এক সপ্তাহেই এই সংখ্যা চারগুণ বেড়েছে। সংস্থাটি বলেছে, পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রয়োজনের তুলনায় তাদের সহায়তার সক্ষমতা অনেক কম।

দুই পক্ষের বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতে এ পর্যন্ত ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

ট্রাম্পের আশাবাদ, পরিস্থিতি ‘ভালো হয়ে যাবে’

সৌদি আরবের পক্ষ থেকে মার্কিন সহায়তা চাওয়ার খবরের বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু জানাননি। তবে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ‘ভালোভাবেই সমাধান হয়ে যাবে’।

এর আগে ২০২৫ সালে লোহিত সাগরে জাহাজে হুতিদের ধারাবাহিক হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র সাত সপ্তাহ ধরে হুতি-নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা চালিয়েছিল। গাজা যুদ্ধে হামাসের প্রতি সমর্থন জানিয়ে হুতিরা ওই হামলাগুলো চালিয়েছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়।

পরে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি হলেও হুতিরা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রাখে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণার পর সম্প্রতি তারা আবারও লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা শুরু করেছে।

এদিকে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুতি সমর্থকেরা ২১০ জন বন্দির মুক্তি উদ্‌যাপন করেছে। এসব বন্দি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় সর্বোচ্চ আট বছর পর্যন্ত আটক ছিলেন।

source: Asia Post

Leave a Reply

Back to top button