আদালতে বিচারককে গালি ও পুলিশকে মারধর, তাৎক্ষণিক ১ বছরের জেল

বরগুনায় আদালত কক্ষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় বিচারককে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল মন্তব্য এবং দায়িত্বরত পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত আসামি বশিরকে দণ্ডবিধির ১৮৬ ও ৩২৩ ধারায় তাৎক্ষণিকভাবে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরগুনা সদর আমলী আদালতে একটি সিআর মামলার শুনানি চলাকালে বরগুনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামানের আদালতে এ ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় কারাদণ্ড দেওয়ার পর সাজা পরোয়ানামূলে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম ফরাজি জানান, একটি মামলায় অস্থায়ী জামিনে থাকা বশিরের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন বিচারক। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এজলাসে উত্তেজিত আচরণ শুরু করেন এবং বিচারকের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করেন। উপস্থিত আইনজীবীরা তাঁকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. কামরুল ইসলাম ফরাজি জানান, অস্থায়ী জামিনে থাকা আসামি বশিরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন বিচারক। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি আদালতে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন। একপর্যায়ে আদালতের কার্যক্রমের মধ্যে একের পর এক প্রশ্ন করার পাশাপাশি অশ্লীল মন্তব্য করতে থাকেন। উপস্থিত আইনজীবীরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি। একপর্যায়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য বশিরকে হ্যান্ডকাফ পরাতে গেলে তিনি কনস্টেবল সিদ্দিকের ওপর হামলা চালান। বিচারকের উপস্থিতিতেই এজলাসে ওই পুলিশ সদস্যকে মারধর করা হয়।
এ ঘটনার পর আদালত দণ্ডবিধির ১৮৬ ও ৩২৩ ধারায় মামলা আমলে নেন। তাৎক্ষণিকভাবে সাক্ষ্য নেওয়া শেষে আদালত বশিরকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে তাকে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। পরে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
বরগুনার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. নুরুল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আদালতের প্রতি সবার আস্থা ও সম্মান থাকা উচিত। আদালতে বশিরের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
source: Barta Bazar