News

দেনার এড়াতে ‘অপহরণ নাটক’, সাড়ে চার বছর পর উদ্ধার হোটেল মালিক

দেনার টাকা পরিশোধ এড়াতে নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়ে সাড়ে চার বছর আত্মগোপনে থাকার অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর ৭০ বছর বয়সী এক হোটেল মালিকের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর মাদারীপুরের কালকিনি থেকে তাঁকে উদ্ধার করেছে পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাকে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ। এরআগে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে কালকিনি এলাকার একটি বেদেপল্লিতে অভিযান চালিয়ে আঃ মান্নান প্যাদাকে উদ্ধার করা হয়।
 
আঃ মান্নান প্যাদা পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বল্লভ গ্রামের প্যাদা বাড়ির জয়নাল আবেদীন প্যাদার ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে বরগুনার তালতলী উপজেলার জয়ালভাঙ্গা এলাকায় তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রবেশপথে ‘পটুয়াখালী হোটেল’ নামে একটি ভাতের হোটেল চালাতেন আঃ মান্নান। সেখানে দুটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকেরা খাবার খেতেন। ওই দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে খাবারের বিল বাবদ তাঁর প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার ও ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাওনা ছিল।

পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে হোটেলের ম্যানেজার মো. নুর আলম সিকদারের পরামর্শে আঃ মান্নান আত্মগোপনে যান বলে দাবি পুলিশের। পরে তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে—এমন একটি ঘটনা সাজানো হয়।

এ ঘটনায় প্রথমে তাঁর ছেলে মো. জসিম প্যাদা পটুয়াখালী সদর থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে একই বছরের ১৪ আগস্ট পাওনাদারদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৬৪, ৩৬৫ ও ১০৯ ধারায় আদালতে মামলা করা হয়।

পুলিশের দাবি, আত্মগোপনে থাকা সাড়ে চার বছরে আঃ মান্নান পটুয়াখালী, ঢাকা, আখাউড়া, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও যশোরসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করেন। কখনো মাজারে, কখনো দারোয়ানের চাকরি করে এবং বিভিন্ন বেদেপল্লিতে ছদ্মবেশে ছিলেন তিনি।

পরে বাগেরহাটের একটি মাজারে কাজল নামে এক নারীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ওই নারীর বরিশালের বাসায় কিছুদিন থাকার পর তাঁর ভগ্নিপতির মাদারীপুরের বাড়িতে আশ্রয় নেন আঃ মান্নান। সেখান থেকেই শেষ পর্যন্ত তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় আঃ মান্নান তাঁর ছেলেকে দিয়ে পাওনাদারদের বিরুদ্ধে করা অপহরণ মামলাটি চালিয়ে যান। এতে মামলার আসামিরা হয়রানির শিকার হয়েছেন কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবস্থান শনাক্তের পর বুধবার গভীর রাতে কালকিনির বেদেপল্লিতে অভিযান চালিয়ে আঃ মান্নানকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী ডিবি।

পটুয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আঃ মান্নান জানিয়েছেন, দেনার টাকা পরিশোধ করতে না পেরে পাওনাদারদের ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়ে তিনি আত্মগোপনে যান। দীর্ঘ সময় ছদ্মবেশে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে সময় লেগেছে।

তিনি আরও বলেন, উদ্ধারের পর আঃ মান্নানকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটির তদন্ত চলছে।

অপহরণ মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ম্যানেজার নুর আলম সিকদারসহ অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

source: The Daily Campus

Leave a Reply

Back to top button