News

অপ্রতীম হত্যা: দায় স্বীকার করে আদালতে তিন আসামির জবানবন্দি

কুমিল্লায় ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীম (১৩) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক আবিদা সুলতানা মলির আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিন আসামিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান রাত ১০টা ১৫ মিনিটে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রোববার বেলা ৩টার দিকে তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হলে বিচারক ১৬৪ ধারায় তাঁদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। জবানবন্দিতে তারা অপ্রতীমকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আসামিদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনের (১৯) বাড়ি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার সানন্দা (মৈশান বাড়ি) এলাকায়। তিনি কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০২৫ সালে পড়াশোনা ছেড়ে দেন। পুলিশ তাকে এ মামলার প্রধান আসামি ও হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

অপর দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর। তাদের বয়স ১৫ ও ১৬ বছর। একজন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী; ১৫ বছর বয়সী কিশোরের বাড়ি কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে। ১৬ বছর বয়সী অপর কিশোরের বাড়ি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার হাতিগাড়া এলাকায়। তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পুলিশ জানায়নি। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় প্রতিবেদনে তাদের নাম প্রকাশ করা হলো না।

পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আসামিদের নাম অজ্ঞাত উল্লেখ করা হয়। পরে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার বেলা তিনটার দিকে আদালতে হাজির করা হয়।

এর আগে বেলা দুইটার দিকে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছিল, অপ্রতীমের মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে পরিকল্পিতভাবে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দিলে বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তুহিনসহ তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে তার বাসায় খাটের বিছানার তোশকের নিচ থেকে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। শনিবার রাতে তাদেরও পরে আটক করা হয়। আদালতে তিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর এখন মামলার তদন্তে তাদের বক্তব্যসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হবে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।

গত শুক্রবার কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

source: Barta Bazar

Leave a Reply

Back to top button