News

ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে নারীর সাথে সরকারি কর্মকর্তার অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল

নোয়াখালীর কবিরহাটে বিএনপি সরকার ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে। মফিজুর রহমান নামের ওই কর্মকর্তার সঙ্গে এক নারীর অন্তরঙ্গ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি আরেক নারীকে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তিন হাজার টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগসংক্রান্ত একটি অডিও কথোপকথনও ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে নোয়াখালী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে মফিজুর রহমান সেটিতে থাকা ব্যক্তি তিনি নিজেই বলে স্বীকার করেন বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মফিজুর রহমান কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অধীনে নরোত্তমপুর, চাপরাশিরহাট ও বাটইয়া ইউনিয়ন এবং কবিরহাট পৌরসভা এলাকার সমাজকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নবগ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির দৈর্ঘ্য চার মিনিট ৪১ সেকেন্ড। এতে এক নারীর সঙ্গে মফিজুর রহমানকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নারী কবিরহাট উপজেলার বাটইয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে মফিজুর রহমান অন্তরঙ্গ সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে অন্য এক নারীকে ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তিন হাজার টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগও উঠেছে ওই সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই অডিওতে এক নারী বিকাশের মাধ্যমে টাকা দিতে চাইলে তাকে নগদে টাকা পরিশোধ করতে বলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে অডিওটির সত্যতা এবং কথোপকথনের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তদন্ত করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

অন্তরঙ্গ ভিডিও সম্পর্কে জানতে চাইলে মফিজুর রহমান বলেন, ওই নারী তার পূর্বপরিচিত। তার দাবি, একদিন ওই নারী তাকে একটি কক্ষে নিয়ে শরবতের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে খাইয়েছিলেন। এরপর কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তিনি জানেন না বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে টাকা চাওয়ার অডিও সম্পর্কে মফিজুর রহমান জানান, বিষয়টি কর্তৃপক্ষ আগেই জানতে পেরেছিল এবং এ নিয়ে তাকে সতর্ক করা হয়েছিল।

কবিরহাট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, তিনি প্রায় দুই মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে শিগগিরই দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নোয়াখালী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক জেড এম মিজানুর রহমান খান জানান, অভিযোগের বিষয়টি জানার পর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন, অর্থ ও প্রতিষ্ঠান শাখা) মোহাম্মদ আবুল কাশেমকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনে যেসব তথ্য উঠে আসবে, তার ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড ও বিভিন্ন ভাতার সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে সরকারি সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে অর্থ দাবি করা হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

তবে মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া বাকি। অন্তরঙ্গ ভিডিওর প্রেক্ষাপট, অডিও কথোপকথনের সত্যতা এবং কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে কোনো অনিয়মের যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেসব বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

source: Azadir Dak

Leave a Reply

Back to top button