ইরানের ‘জঘন্য’ হামলার তীব্র নিন্দা সৌদি আবের

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:
ইরান যদি তাদের হামলা অব্যাহত রাখে তবে তেহরানই হবে ‘সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত’ হবে বলে হুঁশিয়ারি করেছে সৌদি আরব। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির ওপর এবং উপসাগরীয়, আরব ও ইসলামী বিশ্বের অন্যান্য দেশের ওপর ইরানের ‘জঘন্য’ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
বিবৃতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘বেসামরিক স্থাপনা—বিশেষ করে বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হামলা চালানো নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলার স্পষ্ট চেষ্টা। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন।’ তারা মনে করে, এই ধরনের হামলা কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো অঞ্চলের শান্তি বিনষ্ট করার একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা মাত্র।
হামলার সপক্ষে ইরান যে যুক্তি বা ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছে, সৌদি আরব তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরান দাবি করেছিল যে, সৌদি ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুদ্ধের জন্য যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই দাবিকে নাকচ করে দিয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই বিমানগুলো মূলত আকাশপথে নিয়মিত টহল দিচ্ছিল। তাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সৌদি আরব এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) অঞ্চলের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখা।
মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে আরও কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেছে যে, ইরান যদি এই ধরনের হামলা ও উসকানি চালিয়ে যায়, তবে তা বিদ্যমান পরিস্থিতিকে আরও ‘উসকে’ দেবে। এর ফলে দুই দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর ‘গভীর প্রভাব’ পড়বে যা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ধরনের সংঘাত পুরো অঞ্চলের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিবৃতিতে জোরালোভাবে বলা হয়েছে, ‘আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই, আমাদের দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের বর্তমান কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই প্রজ্ঞার পরিচয় দেয় না এবং উত্তেজনার চক্র বিস্তার এড়ানোর আন্তরিকতাও এতে দেখা যায় না। এ ধরনের সংঘাত আরও বাড়লে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত হবে ইরানই।’
প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু
Source: thedailycampus.com

