Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
Uncategorized

কক্সবাজার সাগরে লঘুচাপের মধ্যেই হঠাৎ টর্নেডো, কেন এমন হলো?

লঘুচাপের মধ্যেই হঠাৎ টর্নেডো© সংগৃহীত

লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল। এর মধ্যেই কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে হঠাৎ দেখা গেল ঘূর্ণিবাতাস। কয়েক মিনিটের ওই ঝড়ে উড়ে যায় চেয়ার ও ছাতা। আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন পর্যটকেরা। পরে আবহাওয়াবিদেরা জানান, এটি দুর্বল প্রকৃতির টর্নেডো। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে ভিডিও যাচাই প্রয়োজন বলছেন আরেক আবহাওয়াবিদ।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল পৌনে তিনটার দিকে সুগন্ধা পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাগরের দিক থেকে ঘূর্ণায়মান বাতাস ধীরে ধীরে বালুচরের দিকে এগিয়ে আসে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সেটি সৈকতের একটি অংশে আঘাত হানে। তিন থেকে পাঁচ মিনিট স্থায়ী এই ঘূর্ণিবাতাসে পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

জানা যায়, গরমকালে বা বর্ষার শুরুর দিকে সাগরের পানির ওপরের স্তর তুলনামূলকভাবে বেশি উষ্ণ থাকে। এর ফলে সাগরের ওপর প্রচুর উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস তৈরি হয়। একই সময়ে বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে অপেক্ষাকৃত শীতল বাতাস থাকলে নিচের উষ্ণ বাতাস ও ওপরের শীতল বাতাসের মধ্যে তাপমাত্রার পার্থক্য তৈরি হয়।

এই দুই বিপরীতধর্মী বায়ুর সংস্পর্শে বায়ুমণ্ডলে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে। বাতাসের গতির পার্থক্যও যদি থাকে, তাহলে সেটি ঘূর্ণন তৈরি করতে পারে। পরে সেই ঘূর্ণন দ্রুত শক্তিশালী হয়ে নিচ থেকে ওপরের দিকে উঠতে থাকে। তখন সমুদ্রপৃষ্ঠের পানি, জলীয় বাষ্প ও আশপাশের হালকা বালু শুষে নিয়ে ওপরের দিকে তুলে নেয়। এভাবেই অনেক সময় সমুদ্রের ওপর জলস্তম্ভ বা টর্নেডোর মতো ঘূর্ণিবাতাসের সৃষ্টি হতে পারে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার কিটকট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিবাতাসটি সাগরের দিক থেকে উঠে এসে সুগন্ধা পয়েন্টে আঘাত হানে। এতে পর্যটকদের ব্যবহারের জন্য রাখা ৫২টি কাঠের চেয়ার ও ৬১টি ছাতা ভেঙে যায়। ব্যবসায়ীদেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সময়ের হিসাবে ঘটনাটি অল্পক্ষণ স্থায়ী হলেও ঘূর্ণিবাতাসের গতি ছিল প্রবল। চেয়ার, ছাতা ও বিভিন্ন হালকা সামগ্রী উড়ে যেতে থাকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পর্যটকেরা ধীরে ধীরে সৈকতে ফিরতে শুরু করেন।

এ ঘটনায় কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান দ্য ঢাকা ডায়েরিকে বলেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে দেখা যাওয়া ঘূর্ণিবাতাসটিকে টর্নেডো বলা যায়। তবে এটি দুর্বল প্রকৃতির ছিল। তেমন শক্তি সঞ্চয় করতে পারেনি।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের কয়েকটি ভিডিও দেখানো হয়েছে। তারা এটিকে টর্নেডো বলে মত দিয়েছেন। তবে এটি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেনি। পর্যাপ্ত সময় না পাওয়া বা অন্য কোনো কারণে এটি শক্তি সঞ্চয় করতে পারেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আব্দুল হান্নান বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও দেশে টর্নেডো হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ টর্নেডোগুলোর একটি বাংলাদেশে হয়েছিল। দেশে টর্নেডোর অনেক নজির রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদেরও ভিডিওগুলো দেখানো হয়েছে। তারাও এটিকে টর্নেডো বলে মত দিয়েছেন। তবে এটি গঠনগতভাবেই দুর্বল ছিল। আরও শক্তি সঞ্চয় করতে পারলে এটি শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারত।

তবে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. বজলুর রশিদ দ্য ঢাকা ডায়েরিকে বলেন, কক্সবাজারে দেখা যাওয়া ঘূর্ণিবাতাসটি টর্নেডো কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব নয়। ভিডিওটি যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত অগভীর এলাকা। সেখানে টর্নেডো হওয়া অসম্ভব নয়। সমুদ্রে প্রায়ই ‘ওয়াটার স্পাউট’-এর ঘটনা ঘটে। এতে কোনো একটি স্থান থেকে পানি পাইপের মতো ওপরের দিকে উঠে যায়। তবে কক্সবাজারে এর আগে এ ধরনের টর্নেডো বা টর্নেডোসদৃশ ঘটনা ঘটেছে কি না, আমার জানা নেই।

ড. বজলুর রশিদ বলেন, টর্নেডোর বিষয়ে আগাম সতর্কতা দেওয়া সাধারণত সম্ভব হয় না। পৃথিবীর কোথাও টর্নেডোর জন্য নির্দিষ্ট আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা নেই। কক্সবাজারে এ ধরনের ঘটনা আবার কখন ঘটবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।

এদিকে, বৃহস্পতিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বার্তায় বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি একই এলাকায় রয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, সমুদ্রবন্দর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। সাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অন্য এক বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button