Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
বিশ্ব

ককরোচদের বিজয়, মোদি সরকারের পরাজয়

ভারতে উদীয়মান ছাত্র-যুব আন্দোলন দ্য ককরোচ জনতা পার্টি সরকারের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে আন্দোলন প্রত্যাহারের আগে কেন্দ্রীয় সরকার বেশ কিছু ছাড় দিতে বাধ্য হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া মামলাগুলো প্রত্যাহারের অঙ্গীকার। ভারতের তরুণদের এই আন্দোলনকে মূলধারার আন্তর্জাতিক ও জাতীয় গণমাধ্যমগুলো নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস লিখেছে, নিট ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যু থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুতই শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সরকারি জবাবদিহিতার বৃহত্তর দাবিতে রূপ নেয়। দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর মোদি সরকার শেষ পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলো মেনে নিতে বাধ্য হয়। সংবাদমাধ্যমটি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছিল—আন্দোলনের প্রতীকী ও রাজনৈতিক সবচেয়ে বড় সাফল্য। একই সঙ্গে সরকার পরীক্ষা সংস্কারের আশ্বাস দেয় এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতিও দেয়।

আন্দোলন চলাকালে ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাকার্ড নিয়ে এক সিজেপি সমর্থক। ছবি: এএফপি।
আন্দোলন চলাকালে ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাকার্ড নিয়ে এক সিজেপি সমর্থক। ছবি: এএফপি।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই আন্দোলনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক ছিল তরুণদের নতুন ধরনের রাজনৈতিক ভাষা। তারা ব্যঙ্গ, মিম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সৃজনশীল প্রতিবাদকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সরাসরি মোদি সরকারের সমালোচনা করেছে। একসময় যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো বিজেপির জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়ক ছিল, এখন সেই একই প্ল্যাটফর্ম তরুণদের ক্ষোভের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এ পরিবর্তন ভারতের তরুণ ভোটারদের মনোভাবেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দ্য গার্ডিয়ান এই আন্দোলনের আরেকটি দিক তুলে ধরেছে। পত্রিকাটি জানায়, আন্দোলনের সময় বলিউড ও ক্রীড়াজগতের বহু তারকার নীরবতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই অভিযোগ করেন, সরকারের সমালোচনা করতে তারা ভয় পাচ্ছেন। এই বিতর্ক আন্দোলনের সামাজিক প্রভাবকে আরও বিস্তৃত করেছে এবং সরকারের বিরুদ্ধে জনমতকে শক্তিশালী করেছে।

ছবি: এএফপি।
ছবি: এএফপি।

অন্যদিকে, দ্য ইকোনমিক টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার সরাসরি সিজেপির সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতায় পৌঁছায়। এতে কংগ্রেসসহ প্রচলিত বিরোধী দলগুলো আন্দোলনের মূল কেন্দ্র থেকে অনেকটাই বাইরে চলে যায়। তবে একইসঙ্গে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, সরকারও শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের চাপ উপেক্ষা করতে পারেনি। পত্রিকাটি এটিকে ‘যুবশক্তির বিজয়’ এবং মোদি সরকারের ‘সমঝোতায় বাধ্য হওয়া’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনায় মোদি সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় বার্তা হলো—ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সরকারি জবাবদিহি নিয়ে অসন্তোষ গভীর হয়েছে। সরকার প্রশাসনিক শক্তি প্রয়োগ, ইন্টারনেট সীমিতকরণ এবং আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ছাড় দিতে বাধ্য হয়েছে।

তবে এটিও উল্লেখযোগ্য যে, সিজেপি এখনো ভারতের স্বীকৃত প্রধান রাজনৈতিক দল নয়; এটি মূলত একটি নতুন ছাত্র-যুবকেন্দ্রিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ফলে এটিকে মোদি সরকারের চূড়ান্ত রাজনৈতিক পরাজয় বলা না গেলেও, সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের নেতৃত্বে সরকারের ওপর সবচেয়ে কার্যকর চাপ সৃষ্টিকারী আন্দোলনগুলোর একটি হিসেবে—এটি ইতোমধ্যেই নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছে।

source: Daily Amar Desh

Leave a Reply

Back to top button