মামদানির আপত্তি উপেক্ষা করে নিউইয়র্কে যাওয়ার ঘোষণা নেতানিয়াহুর

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি ইসরায়েলের পক্ষে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের সমর্থনে সত্য তুলে ধরবেন। একই সাক্ষাৎকারে তিনি মেয়র মামদানির বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো ও সমাজে বিভাজন সৃষ্টির অভিযোগ তোলেন।
ইতোপূর্বে মেয়র জোহরান মামদানি মন্তব্য করেছিলেন যে, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত। যদিও পরবর্তীতে তিনি স্পষ্ট করেন যে, নিউইয়র্ক সিটির সরাসরি কাউকে গ্রেপ্তারের আইনি ক্ষমতা নেই, তবে নেতানিয়াহুকে তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী হিসেবেই গণ্য করেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহু দাবি করেন, মামদানি ও তার পরিবার ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে হামাসের হামলা উদযাপন করেছিলেন। তবে মামদানি শুরু থেকেই ৭ অক্টোবরের হামলাকে একটি ‘ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছেন।
আমেরিকান ইহুদিদের মধ্যে নিজের জনপ্রিয়তা নিয়ে নেতানিয়াহু দাবি করলেও সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। এপি-এনওআরসি (AP-NORC)-এর জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি নাগরিকদের মধ্যে নেতানিয়াহুর চেয়ে মেয়র মামদানির গ্রহণযোগ্যতা বেশি। জরিপে প্রায় ৬০ শতাংশ ইহুদি নাগরিক নেতানিয়াহুর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন, যেখানে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ তাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন। পক্ষান্তরে, ৪৪ শতাংশ ইহুদি নাগরিক মামদানিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইউগভ (YouGov) জরিপে দেখা গেছে, দেশটির প্রায় ৪৬ শতাংশ সাধারণ মানুষ মনে করেন গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আইসিসি কর্তৃক পরোয়ানাপ্রাপ্ত নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা উচিত। এ ছাড়া জরিপে অংশগ্রহণকারী ৩০ শতাংশ আমেরিকান ইহুদি মনে করেন যে গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে। এসব তথ্য ইঙ্গিত করে যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে শক্তিশালী ইসরায়েলপন্থি লবি থাকা সত্ত্বেও দেশটির সাধারণ জনগণ ও মার্কিন ইহুদিদের মধ্যে ইসরায়েল নীতি এবং নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে।
source: Azadir Dak