News
মির্জা ফখরুল ইসলামকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে ইসির প্রজ্ঞাপন জারি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ২৭ নম্বর আইন) এর ধারা ১১ অনুসারে নির্বাচনী কর্তা ও নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণা মোতাবেক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ-এর স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
ইসি প্রজ্ঞাপনে জানায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ২৭ নম্বর আইন) এর ধারা ১১ অনুসারে নির্বাচনী কর্তা ও নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণা মোতাবেক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পিতা- মির্জা রুহুল আমিন, গ্রাম-কালিবাড়ী, ডাকঘর-ঠাকুরগাঁও ৫১০০, ঠাকুরগাঁও সদর, ঠাকুরগাঁও পৌরসভা, ঠাকুরগাঁও-কে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা, ১৯৯১ এর বিধি ১২ (৬) অনুযায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মর্মে ঘোষণা করা হলো।
এতে আরও বলা হয়, ঘোষণাটি বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়কে (বিজি প্রেস) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে উক্ত গেজেট বিজ্ঞপ্তির ৫০০ কপি সরবরাহের অনুরোধও জানানো হয়েছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শুরু হয় দুপুর ২টায়। ভোটগ্রহণ শেষ হয় বিকাল ৫টায়।
দুপুর ২টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন দুই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন এবং নির্বাচন পরিচালনার নিয়মাবলী সংসদ সদস্যদের সামনে তুলে ধরেন
এরপর নির্বাচনি সহায়ক কর্মকর্তারা সংসদ সদস্যদের আসনে ব্যালট পেপার নিয়ে যান। সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেন।
প্রথম ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। এরপর ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংসদ সদস্যরা ভোট দেন। সরকারদলীয় রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ভোট প্রদান করে।
ভোটগ্রহণের জন্য তিনটি ব্যালট বাক্স রাখা হয়। সংসদ সদস্যদের পর্যায়ক্রমে ব্যালট পেপার দেওয়া হয়, যাতে ভোটগ্রহণে ভিড় না হয়। ব্যালট পেপারে দুই প্রার্থীর নাম ছিল। ভোট দিয়ে নির্ধারিত স্থানে স্বাক্ষর করে ব্যালট বাক্সে জমা দেন সংসদ সদস্যরা।
ভোটগ্রহণ পরিচালনা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় দায়িত্ব পালন করেন। ভোটগ্রহণের শুরুতে প্রথম ২০ মিনিট সরাসরি সম্প্রচারও করা হয়।
বিকাল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ব্যালট বাক্স খোলা হয়। এরপর প্রকাশ্যে ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন।
সিইসি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন। এর মধ্যে ৩৪৩টি ব্যালট পেপার ব্যবহার করা হয়েছে। অব্যবহৃত ছিল ছয়টি ব্যালট পেপার। ব্যবহৃত ৩৪৩টি ব্যালটের সবগুলোই বৈধ। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়েছেন এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ১৬৭ ভোট বেশি পেয়ে মির্জা ফখরুল বিজয়ী হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি পদে সর্বশেষ ভোটাভুটি হয়েছিল। এরপর ১৯৯৬, ২০০১, ২০০২, ২০০৯, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে একাধিক প্রার্থী না থাকায় ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। ফলে ৩৫ বছর পর আবার সংসদ সদস্যদের ব্যালটের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
source: The Dhaka Diary