News

কেন প্রধানমন্ত্রীর পদ নেননি, সোনিয়া গান্ধীর আত্মজীবনীতে উঠে আসছে সেই গল্প

নেহরু-গান্ধী পরিবারের পুত্রবধূ হয়ে ওঠার পর নিজের জীবনের সুখ-দুঃখ, রাজনৈতিক উত্থান-পতন এবং দীর্ঘ জনজীবনের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে আত্মজীবনী লিখেছেন ভারতের কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। বইটিতে ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে যুক্ত থাকার সময়কার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছেন তিনি।

প্রকাশনা সংস্থা আলফ্রেড এ নফ গত ১৮ আগস্ট জানায়, সোনিয়া গান্ধীর আত্মজীবনী ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’ প্রকাশিত হবে আগামী ১০ নভেম্বর।

নফের মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সোনিয়া গান্ধী বলেন, “আমার পরিবার নিয়ে অনেক কিছু লেখা হয়েছে। কিন্তু খুব কম বর্ণনাই তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য, তাদের কাজ, এমনকি তাদের খুবই মানবিক দুর্বলতাগুলো পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই বই অনেকভাবেই তাদের মানবিক দিকের প্রতি একটা শ্রদ্ধাঞ্জলি। আমার গল্প পাঠকদের সামনে তুলে ধরবে গত ছয় দশকে আমার প্রিয় এই দেশে আমি যে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন দেখেছি, তার এক ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি।”

৭৯ বছর বয়সী সোনিয়া গান্ধীর জন্ম ইতালিতে। ইংল্যান্ডের কেমব্রিজে পড়াশোনার সময় তার পরিচয় হয় সহপাঠী রাজীব গান্ধীর সঙ্গে। পরে তাদের বিয়ে হয়। রাজীব গান্ধী ছিলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর নাতি এবং দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ছেলে।

আত্মজীবনীতে সোনিয়া গান্ধী তুলে ধরেছেন, ১৯৮৪ সালে শাশুড়ি ইন্দিরা গান্ধী হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর কীভাবে তার জীবন আমূল বদলে যায়। ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর রাজীব গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু মাত্র সাত বছর পর তিনিও আততায়ীর হামলায় নিহত হন।

এরপর ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন সোনিয়া গান্ধী। তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালনকারী সভাপতি হন। দলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব পেলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপির কাছে কংগ্রেস ক্ষমতা হারায়।

রাজনীতিতে নিজের প্রবেশ প্রসঙ্গে সোনিয়া গান্ধী বলেন, “হৃদয়ভঙ্গ আর স্বজন হারানোর বেদনাই আমাকে রাজনীতির সেই জনজীবনে টেনে এনেছিল। তার আগে পর্যন্ত আমি নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে খুব কঠোরভাবে আগলে রেখেছিলাম।”

নিজের জীবন নিয়ে লেখার অভিজ্ঞতা সহজ ছিল না বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, “নিজের জীবন নিয়ে লেখাটা আমার জন্য সহজ ছিল না। এর মানে ছিল নিজেকে খুলে দেওয়া, এমন সব মুহূর্ত ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া, যা আমি সবসময় নিজের মধ্যে গভীরভাবে লুকিয়ে রেখেছিলাম।”

সোনিয়া গান্ধী বলেন, “তবে যখন আমি ধীরে ধীরে রাজনীতির জগৎ থেকে সরে এলাম এবং যা দেখেছি তা ফিরে তাকিয়ে দেখলাম, তখন আমার গল্পের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা ভালোবাসা ও আনুগত্যের সুতোটা স্পষ্ট হতে শুরু করল।”

তিনি আরও বলেন, “ইতালির ছোট্ট একটি শহরে আমার শৈশবের সরলতা থেকে শুরু করে ভারতে রাজীব গান্ধীর স্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পুত্রবধূ হিসেবে কাটানো বছরগুলোর জটিলতা পর্যন্ত, সবকিছুই এই সুতোয় বাঁধা।”

নেহরু-গান্ধী পরিবার এখনো ভারতের রাজনীতিতে সক্রিয়। সোনিয়া গান্ধীর দুই সন্তান—লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরা—দুজনেই কংগ্রেসের হয়ে লোকসভার সদস্য।

source: Azadir Dak

Leave a Reply

Back to top button