নোয়াখালীতে কমিটি নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫

নোয়াখালী সদর উপজেলায় একটি ইউনিয়নে ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল পাঁচটার দিকে উপজেলার আশ্বদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) অশ্বদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের একটি নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে উপজেলা ছাত্রদল। এতে ইয়াছিন আলমকে আহ্বায়ক ও আব্দুল্লাহ আল বিন মাহিদকে সদস্যসচিব করা হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন। কারণ, তিনি নবগঠিত কমিটিতে পদ পাননি। এর পর থেকেই তার অনুসারীরা এ কমিটি বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছিলেন।
এ উত্তেজনার মধ্যেই আজ নবগঠিত কমিটির উদ্যোগে স্থানীয় দিনুমনির হাটের অদূরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় (ইউপি) এলাকায় একটি আনন্দ মিছিলের আয়োজন করা হয়। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মিছিলটি শুরু হলে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। তাদের জেলা শহরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানতে আনন্দ মিছিলে অংশ নেওয়া নতুন কমিটির আহ্বায়ক ইয়াছিন আলম, সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল বিন মাহিদ ও যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুমুর রহমান বলেন, অশ্বদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ আনন্দ মিছিলটি বানচাল করার উদ্দেশ্যেই পদবঞ্চিতরা বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে আজ এই হামলা চালায়। হামলায় তাদের পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তারা এ ঘটনার বিচার চান।
তবে হামলার এ অভিযোগ অস্বীকার করেন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন। তিনি বলেন, যোগ্য লোকদের বাদ দিয়ে নিজেদের পছন্দমতো লোককে কমিটিতে পদ দেওয়া হয়েছে। তাই তারা অবৈধ কমিটি বাতিলের দাবিতে আজ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছিলেন। ছাত্রদলের কতিপয় নেতা-কর্মী বহিরাগতদের দিয়ে বিনা উসকানিতে তাঁদের ওপর হামলা করেছে। এতে তাঁদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
তবে কমিটিতে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করেন সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক করিম উদ্দিন বলেন, কমিটিতে কোনো অনিয়ম হয়নি। পদবঞ্চিত সাবেক কমিটির নেতা মোশাররফ হোসেন বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছে। কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে নতুন কমিটির লোকদের ওপর হামলা করা হয়েছে। প্রশাসনের সহায়তায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে সংঘর্ষের কারণে উপজেলার সোনাপুর-কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় যোগাযোগের প্রধান সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। খবর পেয়ে জেলা সদর থেকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ও সুধারাম থানা পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এলাকায় পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে ঘটনার বিষয়ে কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি।
source: The Daily Campus