ইরান ‘ব্যর্থ ও মৃত’ রাষ্ট্র, তাদের আরও কঠোর আঘাত করব: ট্রাম্পের নতুন হুমকি

ইরানকে কঠোরভাবে আঘাতের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান একটি ‘ব্যর্থ’ ও ‘মৃত’ দেশ। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ওয়াশিংটনের সহায়তায় প্রতি রাতে প্রায় ৩০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তার আগের দিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লারাক দ্বীপে বোমা হামলা চালায়। জবাবে ইরান জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এক মাসেরও বেশি সময় পর এটি ছিল দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলা।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী, যেটি ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকে তেহরান অবরোধ করে রেখেছে, সেটি বর্তমানে ‘অত্যন্ত ভালো অবস্থায়’ রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছি। গত রাতে অনেক, অনেক জাহাজ পার হয়েছে। আপনারা জানেন, নৌবাহিনীর সহায়তায়। আর আমরা গড়ে প্রতি রাতে ৩০টি জাহাজ পার করাচ্ছি।’
এর আগে ইরানের পাল্টা হামলার জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের কঠোরভাবে আঘাত করব। এর জবাব দেওয়া হবে।’অন্যদিকে ইরান সতর্ক করে বলেছে, তাদের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা চালানোর জন্য যে কোনো স্থান ব্যবহার করা হলে সেটিও হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ এবং খাতামুল আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, আগের সতর্কতা এবং ওই অঞ্চলের কয়েকটি দেশের দেওয়া আশ্বাস সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে আঞ্চলিক দেশগুলোর ভূখণ্ড, আকাশসীমা ও স্থাপনাগুলো ব্যবহার করে যাচ্ছে।
তারা বলেছে, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে। তবে ‘কখনোই আগ্রাসন সহ্য করবে না।’ ইরান সতর্ক করে আরও বলেছে, ভবিষ্যতে যেকোনো হামলার জবাব দেওয়া হবে ‘আরও অনেক বেশি শক্তিশালী’ আঘাতের মাধ্যমে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এই অঞ্চল ছেড়ে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।’
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে নৌ-মাইন বহনকারী রকেট ছোড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এমন লঞ্চারগুলোকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক অভিযান থেকে সরে অর্থনৈতিক চাপের দিকে কৌশল পরিবর্তন করছে বলে জানানোর কয়েক সপ্তাহ পর এই হামলা হয়। সর্বশেষ পাল্টাপাল্টি হামলা দেখিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার কোনো চুক্তি না হলে সংঘাতের ঝুঁকি এখনো অনেক বেশি।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ ইরানকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। এটি মৃত! তাদের কোনো নৌবাহিনী নেই, কোনো বিমানবাহিনী নেই, কোনো মুদ্রা নেই, তারা তাদের সেনা বা পুলিশকে বেতন দিচ্ছে না, মূল্যস্ফীতি ৩০০ শতাংশ এবং তাদের নেতৃত্ব পুরোপুরি বিশৃঙ্খল এবং দেশটির যথাযথ প্রতিনিধিত্ব করতে অক্ষম।’
তিনি আরও বলেন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর ইরানের দমন-পীড়নই দেশটির সরকারকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করছে। ট্রাম্প লেখেন, ‘তাদের একমাত্র যা আছে তা হলো যুক্তরাষ্ট্রের এফএকে নিউজ, তাদের বিক্ষোভকারীদের হত্যা করার ইচ্ছা-এখন পর্যন্ত ১ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত। তাদের মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের জন্য বিচার হওয়া উচিত!-এবং ‘বুলশিট’ বলার ভালো একটা ধারা।’
বিক্ষোভকারীদের নিহত হওয়ার ১ লাখের এই সংখ্যা ট্রাম্পের উল্লেখ করা সর্বোচ্চ সংখ্যা। এর আগে তিনি বলেছিলেন, চলতি বছরের শুরুর দিকে বিক্ষোভের সময় ইরান ৬০ হাজার পর্যন্ত মানুষকে হত্যা করেছে। নতুন এই সংখ্যায় তিনি কীভাবে পৌঁছেছেন, তা স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে ইরানি কর্তৃপক্ষ নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৭ বলে জানিয়েছে। এই সংখ্যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। ইরান এসব মৃত্যুর জন্য ইসরায়েল-সমর্থিত ‘দাঙ্গাকারীদের’ দায়ী করেছে। ইরান একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ এবং যুদ্ধের সময় বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগও এনেছে।
সংঘাতের প্রথম দিন দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি হামলায় একটি মেয়েদের স্কুলে আঘাত লাগে। এতে ১৬৮ জন নিহত হয়, যাদের অধিকাংশই ছিল শিশু।
source: Barta Bazar