News

ধর্ষণসহ সব ধরনের অপকর্ম মুছে দিতে কাজ করবে মহিলা দল: রিজভী

সমাজ থেকে ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ সব ধরনের অপকর্ম মুছে দিতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। 
তিনি বলেন, নারীদের নাগরিক ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের শিক্ষিত ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার যেসব কর্মসূচি নিয়েছে, সেগুলো জনগণের মধ্যে তুলে ধরতে মহিলা দলের নেতা-কর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালি শুরুর পূর্বে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী আহমেদ বলেন, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের জেলা, মহানগর ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ কেউ অযোগ্য নন। তারা অত্যন্ত যোগ্যতাসম্পন্ন এবং রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সমানভাবে দক্ষ।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় দলের নেতা-কর্মীরা এখন সরকারের অংশ। শুধু পদ-পদবি পেলেই সরকারের অংশ হতে হবে— এমন নয়। এখন তাঁরা নির্বিঘ্নে কথা বলতে পারছেন, চলাচল করতে পারছেন এবং নারীরাও নিরাপদে চলাফেরা করতে পারছেন।
বিএনপির আন্দোলনের সময় মহিলা দলের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতনের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদসহ দলের অনেক নারী নেত্রীকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও কারাগারে যেতে হয়েছে। তাঁদের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে, আদালতে তোলা হয়েছে এবং মাসের পর মাস কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।
রিজভী বলেন, আজকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারে আপনাদের রক্ত-ঘাম আছে। অতএব, এই সরকারের অংশ আপনারাও।
মহিলা দলের নেত্রীদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পর্যায়ে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেত্রীরা দায়িত্ব পালন করছেন। সুলতানা আহমেদ, জেরিন খানসহ যেসব নারী নেতা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের সাফল্য মহিলা দলের প্রত্যেক নেতা-কর্মীর গৌরব।
সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি জনগণের মধ্যে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, সরকারের কর্মসূচির মধ্যে জনগণের আর্থিক উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে নারীদের জন্য নেওয়া কর্মসূচিগুলো সম্পর্কে মানুষকে জানাতে হবে।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দুঃস্থ, অসহায় ও পরিবারের সদস্যদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের নারীদের হাতে এই সহায়তা পৌঁছানো নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য শিক্ষা ও আর্থিক স্বাবলম্বিতার ওপর গুরুত্ব দেন রিজভী। তিনি বলেন, নারীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত হতে হবে এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে। সরকার নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
শিক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মা বেগম খালেদা জিয়া ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। আর তারেক রহমান বলেছেন, মেয়েদের ডিগ্রি ও অনার্স পর্যন্ত পড়াশোনাও অবৈতনিক করার কথা।
রিজভী বলেন, এটা হচ্ছে জনহিতকর এবং নারীদের ক্ষমতায়ন। নারীদের শিক্ষায় আলোকিত করা এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার এসব কর্মসূচি জনগণকে বোঝাতে হবে, বলতে হবে এবং জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব আপনাদের।
তিনি আরও বলেন, দলের প্রত্যেক নেতা-কর্মী মন্ত্রী বা সংসদ সদস্য হবেন, এমন নয়। তবে তাঁদের প্রতিনিধিরা সংসদ সদস্য হয়েছেন, মন্ত্রী হয়েছেন। তাই তাঁদের সাফল্যও দলের প্রত্যেক নেতা-কর্মীর সাফল্য।
মহিলা দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, বিএনপির সরকার দেশের মানুষের আর্থিক উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য কীভাবে কাজ করছে, তা জানতে হবে। এসব কর্মসূচি উপলব্ধি ও আত্মস্থ করে জনগণের কাছে তা তুলে ধরতে হবে।
বিএনপির আন্দোলনে মহিলা দলের নেতা-কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, অতীতে পুলিশের বেষ্টনী, অত্যাচার, মিথ্যা মামলা, রিমান্ড ও হত্যার মধ্যেও মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা রাজপথে মিছিল করেছেন। আফরোজা আব্বাসের নেতৃত্বে তাঁরা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।
রিজভী বলেন, অতীতের মতোই এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গণবান্ধব, জনবান্ধব ও নারীর ক্ষমতায়নের কর্মসূচি বাস্তবায়নে মহিলা দলের নেতা-কর্মীদের কাজ করতে হবে। এটিই তাঁদের প্রধান দায়িত্ব।
এসময় জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা এবং সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ সহ মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

source: The Daily Campus

Leave a Reply

Back to top button