News

সংসদের নিয়মের ট্র্যাপে অনেক সময় বোবা হয়ে যেতে হয়: হাসনাত আব্দুল্লাহ

হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং জাতীয় সংসদ© সংগৃহীত ও সম্পাদিত

জাতীয় সংসদের নিয়মের ট্র্যাপে অনেক সময় বোবা হয়ে যেতে হয় বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। 

তিনি বলেছেন, ‘মানুষ মনে করে, আপনি তো পার্লামেন্টে আছেন, তাহলে কথা বলছেন না কেন? ব্যাপারটা আসলে তা নয়। কথা বলছেন, কিন্তু আপনার কথাটা দেখানো হচ্ছে না। পার্লামেন্টে শুধু সেটাই দেখানো হয়, যেটা কার্যপ্রণালির নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদিত।’

গতকার শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ইউটিউব চ্যানেল ‘সামীর স্ক্যান’ এ প্রকাশিত এক পডকাস্টে তিনি এসব কথা বলেন। 

আরও পড়ুন

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “এমপি হওয়া ট্র্যাপ না, পার্লামেন্টারিয়ান হওয়াটাই ট্র্যাপ। এখানকার পার্লামেন্টের বিধি, কার্যপ্রণালি নিয়মের ট্র্যাপে আপনি অনেক সময় বোবা হয়ে যাচ্ছেন। মানুষ মনে করে, আপনি তো পার্লামেন্টে আছেন, তাহলে কথা বলছেন না কেন? ব্যাপারটা আসলে তা নয়। কথা বলছেন, কিন্তু আপনার কথাটা দেখানো হচ্ছে না। পার্লামেন্টে শুধু সেটাই দেখানো হয়, যেটা কার্যপ্রণালির নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদিত।”

তিনি বলেন, “ধরুন, একটি প্রশ্ন করার জন্য আমি এক মিনিটেরও কম সময় পাই। এক মিনিট পরই আমার মাইক বন্ধ হয়ে যায়, ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যায়। অর্থাৎ আমার কাছ থেকে সংযোগ সরিয়ে অন্য জায়গায় চলে যায়। অথচ আমি সারাদিন হাত তুলে থাকি। পার্লামেন্টে কোনো একটি বিষয়ে প্রশ্ন করতে হলে ১৫ দিন আগে লিখিতভাবে নোটিশ দিতে হয়। আজকে দেশে একটি বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। পার্লামেন্টে ঢোকার আগে দেখলাম দেশে অনেক বড় একটা সংকট তৈরি হয়েছে। কিন্তু আপনি সেটা নিয়ে কথা বলতে পারবেন না। তাহলে এটা তো একটা ফাঁদ।”

পার্লামেন্টের ট্র্যাপ নিয়ে তিনি বলেন, “মানুষ আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে, জবাবদিহির মধ্যে রাখছে। তারা বলছে, ‘তুমি তো পার্লামেন্টে ছিলে।’ আমরা যেমন লোডশেডিং সংকট নিয়ে কথা বলতে চেয়েছি, সে বিষয়ে নোটিশও পাঠিয়েছি। কিন্তু এটাই পার্লামেন্ট—এটাই একটা ট্রাপ।”

সংসদে কথা বলা নিয়ে স্পিকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়ে তিনি বলেন, “আপনি কথা বলার মতো একটি কথা বললে স্পিকার বলবেন, ‘এটা শাহবাগ স্কয়ার না।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলবেন, ‘এটা পল্টন স্কয়ার না।’ এ ধরনের কথা বলা হয়। আবার ধরুন, আমি এক মিনিট কথা বলছি, আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেটার জবাব দিচ্ছেন ৪০ মিনিট। তার কোনো সময়সীমা নেই। তিনি তার মতো করে বলতে পারছেন। তখন মাঝে মাঝে আমার মনে হয়, আমি আলাদা একটা হাতের মাইক নিয়ে যাই।”

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, “এখানে আপনি জোরপূর্বক নীরব করে দেওয়া হচ্ছেন এবং জনগণের স্বার্থে সবকিছু বলার অনুমতি আপনার নেই। অথচ রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চাই। রাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনার সবকিছু আমাকে বুঝতে হবে। আমাকে মাঠের বাস্তবতা বুঝতে হবে। একই সময়ে রাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনায় আমার উপস্থিতিও প্রয়োজন।”

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “আমার মনে হয়, এটাও আমাদের একটা শেখার পর্ব। মানুষকে এটা বোঝানো যে আমরা দেশ পরিচালনা করার জন্য যথেষ্ট সক্ষম। যখন পার্লামেন্ট জনগণের পক্ষে কথা বলে এবং আরও ভালো নীতির প্রস্তাব দেয়, তখন মানুষের মধ্যে একটা ধারণা তৈরি হয়—‘হ্যাঁ, সে আমার হয়ে কথা বলছে।’ তখন আপনি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করতে পারবেন, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন। এটা মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা তৈরির একটি উপায়।”

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button