দেশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সংসদে নোটিশ দেওয়া হলেও আলোচনা করছে না সরকার: সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের চলমান বিভিন্ন সংকট ও জনভোগান্তির বিষয় নিয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সংসদে নোটিশ দেওয়া হলেও সরকার সেগুলো নিয়ে আলোচনা করছে না।
বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতের বিট সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের বিষয়ে একই দিনের একাধিক প্রতিবেদনে একই ধরনের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
শফিকুর রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই দেশে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, নির্বাচনের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদসংক্রান্ত শপথের বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের অবস্থানের পার্থক্য থেকেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পরেই দেশে সংকট শুরু হয়েছে। বিরোধীদল দুটি শপথ নিলেও সরকার নিয়েছে একটি শপথ। তাদের এই অপনীতির কারণে দেশে সংকট শুরু হয়েছে।’
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ
বিএনপির বিরুদ্ধে নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করার অভিযোগও তোলেন জামায়াত আমির।
শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি জনগণের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ক্ষমতায় আসার পর সেগুলোর সঙ্গে বর্তমান কর্মকাণ্ডের মিল পাওয়া যাচ্ছে না।
তাঁর ভাষ্য, জনগণ পরিবর্তন ও বিভিন্ন সংস্কারের প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দিয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের পর সেই প্রত্যাশা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
সংসদে বিভিন্ন সংকট নিয়ে নোটিশ
দেশের চলমান সংকটগুলো সংসদে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান বিরোধীদলীয় নেতা।
তিনি বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন জাতীয় সমস্যা নিয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সংসদে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে তাঁর দেওয়া নোটিশে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও বেকারত্ব বৃদ্ধির বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছিল।
শফিকুর রহমানের অভিযোগ, এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংসদে আলোচনা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে সংসদের ভেতরে জনগণের সমস্যা তুলে ধরে কার্যকর আলোচনা ও সমাধানের পথ খোঁজার সুযোগ সীমিত হচ্ছে।
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে বিনিয়োগ অন্য দেশে যাচ্ছে
বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট থাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবর্তে অন্য দেশে চলে যাচ্ছেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে বিদেশিদের বিনিয়োগ বাংলাদেশ থেকে অন্য দেশে চলে যাচ্ছে।’
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শিল্প ও ব্যবসার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ। এসব খাতে দীর্ঘস্থায়ী সংকট থাকলে নতুন শিল্প স্থাপন ও বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এর আগে সংসদেও তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এ সংকট মোকাবিলায় উচ্চপর্যায়ের একটি কার্যকর জ্বালানি সেল গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল।
কর্মসংস্থানের বদলে বেকারত্ব বাড়ছে
নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে—সরকারের এমন প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ করেন শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, সরকার কর্মসংস্থান বাড়ানোর কথা বললেও বাস্তবে পরিস্থিতি তার বিপরীত দিকে যাচ্ছে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরির পরিবর্তে দেশে বেকারত্ব বাড়ছে।
তাঁর ভাষায়, ‘সরকার বলেছিল দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। কিন্তু হচ্ছে তার বিপরীতটা। কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিবর্তে দেশে বেকারত্ব বাড়ছে।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশে একের পর এক সমস্যা তৈরি হচ্ছে এবং মানুষের ভোগান্তি কমার পরিবর্তে বাড়ছে। তাঁর মতে, এসব সমস্যা সমাধানে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংসদে কার্যকর আলোচনা প্রয়োজন।
source: Azadir Dak