News

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২৩ হাজার টাকা দাবি করেছিল বিএনপি, আলোচনায় তিন বছর আগের বিবৃতি

বিএনপির তিন বছর আগের সেই বিবৃতি© ঢাকা ডায়েরি সম্পাদিত

তিন বছর আগে বিরোধী দলে থাকাকালে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২৩ হাজার টাকা করার দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল বিএনপি। ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর দলটির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শ্রমিকদের এই দাবিকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করা হয়।

তখন শ্রমিকদের আন্দোলন এবং তাদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের সমালোচনাও করেছিল দলটি। তিন বছর পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলেছে। বিএনপি এখন ক্ষমতায়। আর নতুন করে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। আন্দোলন ঘিরে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও কারখানায় উৎপাদন বন্ধের ঘটনায় আলোচনায় এসেছে বিএনপির সেই পুরোনো বিবৃতি।

২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তৈরি পোশাকশ্রমিকদের সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৩ হাজার টাকা করার দাবি যৌক্তিক। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মূল্যস্ফীতির কারণে শ্রমিকদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের বর্তমান মজুরি দিয়ে জীবন চালানো কঠিন। বিবৃতিতে শ্রমিকদের দাবির প্রতি বিএনপির পূর্ণ সমর্থন জানান তিনি। দলটির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তবে ২৩ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি বিএনপির একক কোনো দাবি ছিল না। ২০২৩ সালে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনও এই দাবিতে আন্দোলন করছিল। ওই বছরের অক্টোবরে গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্সসহ শ্রমিক সংগঠনগুলোর জোট ন্যূনতম মজুরি ২৩ হাজার টাকা করার দাবিতে সমাবেশ ও মজুরি বোর্ড ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে। শ্রমিক সংগঠনগুলোর বক্তব্য ছিল, মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় প্রচলিত মজুরিতে জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।

সে সময় শ্রমিকদের আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকারও সমালোচনা করেছিল বিএনপি। ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে এক শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় দলটির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিন্দা জানান। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি করেছিলেন।

আন্দোলন ও দর-কষাকষির পর ২০২৩ সালের নভেম্বরে সরকার পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে। নতুন মজুরি কার্যকর হয় ১ ডিসেম্বর থেকে। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর একাংশ ২৩ হাজার টাকার দাবির তুলনায় এই মজুরি অপর্যাপ্ত বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।

এবার শ্রমিকদের দাবি, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। খাদ্যপণ্য, বাসাভাড়া, যাতায়াত ও চিকিৎসার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তাদের বক্তব্য। গত ৩১ অক্টোবর থেকে রাজধানীর মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে সড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন বন্ধের ঘটনা ঘটেছে। 

আন্দোলনের মধ্যে ১ নভেম্বর সরকার পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পর্যালোচনায় ছয় সদস্যের একটি মজুরি বোর্ড গঠন করে। তবে বোর্ড গঠনের পরও বিক্ষোভ থামেনি। ২ নভেম্বর শ্রমিকদের আন্দোলনে ৫২৯টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধের খবর দেয় দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। পরদিন ৩ নভেম্বর দ্য ডেইলি স্টার জানায়, সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরের ৪০০টির বেশি কারখানা বন্ধ ছিল। ওই দিনও বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বিএনপির ২০২৩ সালের বিবৃতিতে শ্রমিকদের ২৩ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিকে যৌক্তিক বলা হয়েছিল। তখন দলটি ছিল বিরোধী দলে, আর এখন রাষ্ট্রক্ষমতায়। তিন বছর আগের সেই অবস্থানের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টানছেন অনেকে। শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবি, আন্দোলন মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা এবং সরকারের পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে বিএনপির আগের বক্তব্যের সঙ্গে বর্তমান অবস্থানের সামঞ্জস্যের প্রশ্নও সামনে এসেছে।

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button