News

‘শেখ হাসিনার ভিডিও প্রচার নয়’, আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ায় বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত করা হয় তাহসিফকে

কে এম তাহসিফ সাউরি© ঢাকা ডায়েরি সম্পাদিত
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির চাকরিচ্যুতির কারণ ও চাকরিজীবনের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এনেছেন আলজাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। তার দাবি, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে নয়, বরং সামরিক স্থাপনায় আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ার ঘটনায় তাহসিফকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। এ বিষয়ে দুটি সামরিক নথিও প্রকাশ করেছেন তিনি।
 
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের এসব তথ্য জানান। বিমানবাহিনীতে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে তিনি তথ্যগুলো পেয়েছেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন। জুলকারনাইনের প্রকাশ করা নথি দুটি হলো তাহসিফ সাউরিকে বিমানবাহিনীর চাকরি থেকে বরখাস্ত করার আদেশ এবং তাকে কালো তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে বিমানবাহিনীর প্রশাসনিক শাখার প্রভোস্ট মার্শাল পরিদপ্তরের চিঠি।
 
জুলকারনাইন সায়েরের ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একাধিক কর্মকর্তাকে বাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে তাদের বিমানবাহিনীসহ দেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। এসব কর্মকর্তার একজন ছিলেন কে এম তাহসিফ সাউরি।
 
বিমানবাহিনীতে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জুলকারনাইন জানতে পেরেছেন বলে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১০ থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে বিমানবাহিনীর একটি হ্যাঙ্গারে একাধিক পুরুষ ও নারী কর্মকর্তাকে অত্যন্ত আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া যায়। হ্যাঙ্গার হলো যুদ্ধবিমান রাখার জন্য ব্যবহৃত স্থাপনা।
 
 
তার পোস্টের দাবি অনুযায়ী, বিমানবাহিনীর প্রভোস্টের হাতে আটক হওয়ার পর তাহসিফ সাউরিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করা হয়। পরে তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়।
 
এদিকে নথি ও চাকরিসংক্রান্ত তথ্য সম্পর্কে অবগত একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে জুলকারনাইন আরও দাবি করেন, চাকরিরত অবস্থায় তাহসিফের ডোপ টেস্টে পজিটিভ ফল এসেছিল। এ ছাড়া ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হয়। তদন্তের সময় তার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছিল। প্রায় দুই বছর তার পাসপোর্ট আটকে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র।
 
জুলকারনাইন সায়েরের প্রকাশ করা প্রথম নথিটি বিমানবাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার আদেশ। এতে কর্মকর্তা হিসেবে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি, পরিচিতি নম্বর বিডি/১০৩০৪ এবং জিডি (পি) উল্লেখ রয়েছে।
 
নথিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বরের একটি প্রজ্ঞাপনের উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বিমানবাহিনী অ্যাক্ট রুলস, ১৯৫৭-এর রুল ১৫ অনুসারে ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর অপরাহ্ণ থেকে তাহসিফ সাউরিকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
 
বরখাস্তের পর তার প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংশ্লিষ্ট ঘাঁটি বা ইউনিটের মাধ্যমে বিমান সদর দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, সাদা পটভূমিতে তোলা সিভিল পোশাকের রঙিন ছবি, সিএসডি কার্ড এবং হালনাগাদ তথ্যসহ চেক ফরম রয়েছে।
 
এ ছাড়া তার পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে বিমান সদর দপ্তরের প্রভোস্ট মার্শাল পরিদপ্তরে পাঠাতে বলা হয়। তার অফিসিয়াল পাসপোর্ট থাকলে সেটিও সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
 
নথিতে আরও বলা হয়, বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তার কাছে কোনো সরকারি পাওনা থাকলে তা পরিশোধ করতে হবে। ব্যাংকঋণ বা ওভারড্রাফটের মতো ব্যক্তিগত দেনা থাকলেও সেগুলো পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে।
 
তাহসিফের ফ্লাইং লগবুক সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানোর নির্দেশও ছিল। পাশাপাশি তার অফিসিয়াল ই-মেইল ঠিকানা বাতিল করার অনুরোধ জানানো হয়। বরখাস্তের পর তার অফিসিয়াল ও সাধারণ পাসপোর্ট জমা হলে সেগুলো বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানোর কথাও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
 
প্রকাশিত দ্বিতীয় নথিটি বিমানবাহিনী সদর দপ্তরের প্রশাসনিক শাখার প্রভোস্ট মার্শাল পরিদপ্তর থেকে পাঠানো। এতে তাহসিফ সাউরিকে কালো তালিকাভুক্ত করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। নথিটির তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪। এতে বিমানবাহিনীর ২০০২ সালের ৯ অক্টোবরের ১২৫-১৮ নম্বর আদেশ এবং ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বরের একটি চিঠির উল্লেখ রয়েছে।
 
নথিতে বলা হয়, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ায় তাহসিফ সাউরিকে কালো তালিকাভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চিঠি পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিমানবাহিনীর ১২৫-১৮ নম্বর আদেশের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাকে বিমানবাহিনীর এলাকায় কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য তার পাসপোর্ট আকারের দুটি রঙিন ছবি এবং প্রয়োজনীয় তথ্যও পাঠানো হয়।
 
একই নথিতে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা পরিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল, তাহসিফ সাউরিকে বাংলাদেশের সব সেনানিবাস এবং নৌবাহিনীর জাহাজ ও ঘাঁটির আওতাভুক্ত এলাকায় কালো তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে সেনা ও নৌবাহিনীর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অবহিত করা। নথিতে এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ছবি ও তথ্য পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য পাঠানোর কথাও উল্লেখ রয়েছে।
 
অন্যদিকে তাহসিফ সাউরির চাকরিসংক্রান্ত নথি সম্পর্কে অবগত একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের দাবি, বিমানবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় তার রুটিন ডোপ টেস্টের ফল পজিটিভ এসেছিল। সূত্রটি ঘটনাটিকে গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
 
সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদমর্যাদায় থাকা তাহসিফকে অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক ঘাঁটিতে বদলি করা হয়েছিল। ওই পদমর্যাদা ও অবস্থানে থাকা একজন কর্মকর্তার ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘন ঘন বদলি ছিল অস্বাভাবিক। তবে ডোপ টেস্টের ফল এবং একাধিক ঘাঁটিতে বদলির বিষয়ে প্রকাশিত দুটি নথিতে বিস্তারিত তথ্য নেই। এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে সামনে এসেছে।
 
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। ওই সময় তার দেশত্যাগের মুহূর্তের দৃশ্য দাবি করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি কে ধারণ করেছিলেন এবং কারা তা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, তা নিয়ে তখন আলোচনা তৈরি হয়।
 
পরবর্তী সময়ে ভিডিওটি ধারণ বা ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর দুই কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে তাদের একজন হিসেবে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। অন্যজন ছিলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রিফাত আশরাফী।
 
ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দুই কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল।
 
তবে তাহসিফ সাউরির চাকরিসংক্রান্ত তথ্য সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলোর দাবি, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হলেও সেটিই চাকরিচ্যুতির মূল কারণ ছিল না। বরং সামরিক স্থাপনায় আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ার ঘটনার পর তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।
 
সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, তাহসিফ বরাবরই দাবি করে এসেছেন, তিনি ভিডিওটি ধারণ করেননি। তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম ভিডিও ধারণের জন্য নয়, বরং ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় শুরু হয়েছিল।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা তদন্তের সময় সামরিক কর্তৃপক্ষ তাহসিফ সাউরির মোবাইল ফোন জব্দ করেছিল। পরে ফোনটি পরীক্ষা করে তদন্তকারীরা আপত্তিকর কিছু উপাদান পান বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
 
সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব উপাদানের মধ্যে একাধিক ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া ধারণ করা ভিডিওও ছিল। সামরিক কর্তৃপক্ষ ফোনটি নিজেদের হেফাজতে রেখেছিল। তবে ফোন জব্দের পরও তাহসিফের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম চলমান ছিল বলে দাবি করেছে সূত্রটি।
 
তাহসিফ সাউরির চাকরিসংক্রান্ত তথ্য সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলোর দাবি, প্রায় দুই বছর তার পাসপোর্ট আটকে রাখা হয়েছিল। পরে সেটি তাকে ফেরত দেওয়া হয়।
 
সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর তার উড্ডয়ন-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতার রেকর্ডে ফ্লাইং আওয়ার পুনরায় যুক্ত করা হয়নি। ফলে তিনি কোনো বাণিজ্যিক বিমান সংস্থায় পাইলট হিসেবে কাজ করতে পারেননি। বিমান চলাচল খাতের অন্য পেশায় যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি বাধার মুখে পড়েছিলেন বলে দাবি করেছে সূত্রটি। তবে পাসপোর্ট আটকে রাখা এবং ফ্লাইং আওয়ারের রেকর্ড পুনর্বহাল না করার বিষয়ে প্রকাশিত সামরিক নথি দুটিতে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
 
তাহসিফ সাউরি ও রিফাত আশরাফীর অবসর নিয়ে এর আগে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বক্তব্য দিয়েছিল।
 
২০২৫ সালের ৪ আগস্ট দেওয়া এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি ও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রিফাত আশরাফীকে বিমানবাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অবসর দেওয়া হয়েছিল।
 
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তাদের অবসরের সঙ্গে বিদেশি কোনো গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতার সম্পর্ক নেই। এর আগে একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দুই কর্মকর্তাকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর যে দাবি করা হয়েছিল, আইএসপিআর সেটিকে বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করে।
 
এর আগে গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দ্বীপের সঙ্গে তাহসিফ সাউরি মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়। পরে ২৮ অক্টোবর বিকেলে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ঢাকার উত্তরখান থানা এলাকার রাজাবাড়ী নৌঘাট থেকে তাহসিফ সাউরির লাশ উদ্ধার করে। পরে এ ঘটনায় পিবিআই সাউরির বন্ধু দ্বীপকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
 
বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কেউ একজন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন। নদী পুলিশের নিয়ন্ত্রণকক্ষের কনস্টেবল মোহাম্মদ রাকিব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উদ্ধারের সময় সৌরীর পরনে ছিল সাদা পায়জামা ও কালো শার্ট। তার হাতে একটি হাতঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন ছিল। ওই ফোনের মাধ্যমে পুলিশ তার পরিচয় শনাক্ত করে।
 
নদী পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, মরদেহের বাইরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের প্রাথমিক প্রতিবেদনে নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
 
এ ঘটনার পর শুক্রবার সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি থেকে তাহসিফের ব্যবহৃত নম্বর প্লেটবিহীন সুজুকি জিক্সার এসএফ মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে পিবিআই। যেখানে মোটরসাইকেলটি রাখা ছিল, তার খুব কাছেই তুরাগ নদ।
 
পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ এক বার্তায় জানান, নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মাজার বস্তি এলাকায় একটি মোটরসাইকেল পাওয়া গেছে। মোটরসাইকেলটি তাহসিফের কি না, তা যাচাই-বাছাই চলছে।
 
পিবিআই বলেন, ওরা সেখানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পুলিশের একটি দল তাদের ধাওয়া দিলে দীপ তুরাগ তীরে স্থাপিত বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পেছনে গিয়ে লুকান। আর তাহসিফ নদে গিয়ে ঝাঁপ দেন। এরপর সুযোগ বুঝে দীপ সেখান থেকে চলে আসেন। রাত আড়াইটার দিকে নিজের বাড়িতে ফেরেন দীপ।
 
ওই এলাকাটা ‘মাদকস্পট’ হিসেবে পরিচিত। গভীর রাতে দুজন কেন সেখানে অবস্থান করছিলেন, জানতে চাইলে পিবিআইয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা বিষয়টি জেনেছি, এটা একটু সেনসিটিভ। আরেকটু ক্রসচেক করে নিই।

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button