‘পথচারী’ নাটকের আড়ালে ইত্তেফাক-কালের কণ্ঠের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল ও পরবর্তীতে এক কর্মীকে ছাড়িয়ে নেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা এবং দায়িত্বরত সাংবাদিকের নিরপেক্ষতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দৈনিক ইত্তেফাকের মোবাইল জার্নালিজম (মোজো) প্রতিনিধি আবদুল্লাহ গালিব আল সাদি নিষিদ্ধ সংগঠনের ক্যাডারদের আড়াল করে তাঁদের ‘সাধারণ পথচারী’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
স্থানীয় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগের মিছিলের খবর আগাম পেয়েও পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত না করে ইত্তেফাকের ওই সাংবাদিক সরাসরি ঘটনাস্থলে ভিডিও ও লাইভ কভারেজের প্রস্তুতি নিয়ে অবস্থান নেন। পরবর্তীতে ছাত্রদল নেতা এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করলে ওত পেতে থাকা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাঁকে জোরপূর্বক ছাড়িয়ে নিয়ে যান। তবে ইত্তেফাকে সংবাদটির শিরোনাম দেওয়া হয়— “রাজধানীতে ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করলো ছাত্রদল নেতা, ছাড়িয়ে নিলো পথচারীরা।”
অভিযোগ উঠেছে, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ওই সাংবাদিকের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ রয়েছে এবং তিনি নিয়মিতই তাদের মিছিল-সমাবেশের আগাম খবর পেয়ে স্পটে হাজির হন। সচেতনভাবে নিষিদ্ধ সংগঠনের ক্যাডার ও যুবলীগ কর্মীদের ‘সাধারণ পথচারী’ হিসেবে ফ্রেমবন্দী করে সংবাদ প্রচার করাকে তথ্য বিকৃতি ও তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যম হিসেবে দেখছেন সমালোচকরা।
এই ঘটনা কেন্দ্র করে সাংবাদিকতার নীতি ও আইনি সীমা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ ও সংবাদ বিশ্লেষকরা। নেটিজেনদের দাবি, সাংবাদিকতার সুযোগ নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যম এবং সংবাদকর্মী নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের উদ্দেশ্য হাসিলে প্রত্যক্ষ সহায়তা করছেন। বিশেষ করে দৈনিক ইত্তেফাক এবং কালের কণ্ঠের মতো মূলধারার পত্রিকাগুলোতে মাঝেমধ্যেই নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলের সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ) দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছে, যা প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
source: Azadir Dak