News

আত্নহত্যাকে হত্যা সাজিয়ে মামলা, বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট

জামালপুরের মেলান্দহের পূর্ব শত্রুতার জেরে আত্নহত্যাকে মিথ্যা হত্যা মামলা সাজিয়ে কয়েকটি পরিবারের বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২ টায় উপজেলার পূর্ব শ্যামপুর গ্রামে এ মানববন্ধন করে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।  

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা জানায়, গত ৯  আগস্ট আমিনুল ইসলামের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করে। তবে জমি সংক্রান্ত বিষয়কে জড়িয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে পার্শবর্তী মান্নানসহ তার চার ভাই ও পিতা-মাতাকে জড়িয়ে হত্যা মামলা দায়ের করে। এছাড়া তাদের বাড়ি ও দোকানঘর সেদিনই কয়েক দফা ভাঙচুর ও গবাদিপশু এবং সর্ণালঙ্কার লুটপাট করে। এরপর বাড়ি ছাড়া হয় সবাই।

তারা আরও জানায়, সেই হত্যা মামলার পোসমোর্টেম রিপোর্টে আসে সেই নারীর মৃত্যুর কারণ ছিলো আত্নহত্যা। ঘটনার পর থেকে দের মাস হলেও পাঁচটি পরিবার এখনো বাড়ি ছাড়া হয়ে আছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তারা। 

ভুক্তভোগী মিনারা খাতুন বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে আমরা ৫১ দিন ধরে বাড়িতে থাকতে পারছি না। পরিবার নিয়ে বাইরে অবস্থান করছি। আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে, জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। আমরা নিরাপদে বাড়িতে ফিরতে চাই এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

আরও দেখুন: ‘দুই কোটি টাকা দেন, সই করে দেব’—পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলীর ঘুষ চাওয়ার ভিডিও ভাইরাল‎

আরেক ভুক্তভোগী মো. আলাল বলেন, ‘ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা বলে উঠে এসেছে। তাহলে আমাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা কেন দেওয়া হলো? আমার মা-বাবাকে কোনো অপরাধ ছাড়াই দেড় মাস জেল খাটতে হয়েছে। আমরা কোনো অন্যায় করিনি। পূর্বশত্রুতার জেরে আমাদের মিথ্যা হত্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।’

এদিকে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মেলান্দহ থানার ওসি এ.টি.এম মাহমুদুল হক বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে ওই নারীর মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে জমা দেওয়া হবে। বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

source: The Daily Campus

Leave a Reply

Back to top button