News

আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে বুঝব- ‘ছাত্রদল ও বিএনপিতে বটদের প্রভাবই সবচেয়ে বেশি’

সাংবাদিকদের পেটানোর অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গতকাল রাতে সংগঠিত এ ঘটনায় গুরুতর আহত ৪ জনসহ প্রায় ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন- বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু-সহ কয়েকজন সাংবাদিক।

জানা গেছে, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের উপর অতর্কিত হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ঘটনার সময় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের জড়ো দেশীয় অস্ত্রের ছবি তুলছিলেন সাংবাদিকরা। হামলায় নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম, সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম, কর্মী বিশাল চক্রবর্তীসহ (সাবেক ছাত্রলীগ নেতা) অনেকে।

উপস্থিত সংশ্লিষ্ট ও ফুটেজে বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হামলার অগ্রভাবে ছিলেন শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিব। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে ৫-৬ বছর আগে ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার কথা তার। নিজ জেলা বগুড়া। ব্যক্তিজীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক কন্যা সন্তানের জনক।

এর আগে ছাত্রলীগ কর্মীকে রক্ষার নামে তার কাছ থেকে চাঁদা চেয়ে ছাত্রদল বহিষ্কার হয়েছিলেন আহ্সান। ৫ আগস্ট গণঅভ্যূত্থানের পরপরই ওই চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালের অক্টোবরের সংগঠিত ওই ঘটনার পর ১৯ অক্টোবর ছাত্রদলের কেন্দ্র থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আহসানকে বহিষ্কার করা হয়।

ছাত্রলীগ কর্মীর সঙ্গে ছাত্রদল নেতা আহসান হাবিবের একটি কথোপকথনও ফাঁস হয় ওই সময়। ৫১ সেকেন্ডের কল রেকর্ডে আহসান হাবিবকে বলতে শোনা যায়, ‘আসামি তো অনেকগুলো। তোমার জায়গায় আরেকটা নাম বসিয়ে দেব। নিজে বাঁচলে বাপের নাম। দলের দিক দেখে লাভ নাই। তুমি নিজে বাঁচো আগে। একটা মামলা খেয়ে গেলে কেউ দেখবে না। একটা পলিটিক্যাল মামলা ১০/১৫ বছর চলে। এছাড়া ফোনের অপর পাশে থাকা ছাত্রলীগ কর্মীকে রুনু-কিবরিয়ার কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাঠাতে বলেন ছাত্রদলের এই নেতা।’

এদিকে হামলার পর একাধিক স্ট্যাটাস দিয়েছেন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিব। লিখেছেন, তার বিরুদ্ধে ‘অন্যায়মূলক’ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হলে বুঝবেন ছাত্রদল এবং বিএনপিতে বটদের প্রভাবই সবচেয়ে বেশি।’

হাবিব লিখেন, ‘…শহীদ জিয়াউর রহমান হলের কারচুপির রাকসু নির্বাচনে নির্বাচিত জিএস আরিফুলকে ধরতে গেলে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের উপর চড়াও হওয়া সাংবাদিক নামধারী গুপ্ত শিবির ছানাদের প্রতিহত করার কারণে যদি আমার বিরুদ্ধে কোন অন্যায়মূলক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হয়; তাহলে বুঝবো এই দলে ত্যাগী, নির্যাতিত, সাহসী ও যোগ্যদের কোন ঠাঁই নাই এবং ছাত্রদল তথা বিএনপি বটেদের প্রভাবই সবচেয়ে বেশি। যোগ্য ও ত্যাগীদের দরকার নাই।’ পোস্টে সালাউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগও এনেছেন তিনি।

আরও একটি স্ট্যাটাসে আহসান লিখেন, ‘সাংবাদিক যখন শিবির ক্যাডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে ছাত্রদলকে আক্রমণ করতে উদ্যত হয় তখন কি তাকে সাংবাদিক বলেন নাকি শিবিরের সাইবার সেলের সদস্য বলবেন?’

এআর

source: Barta Bazar

Leave a Reply

Back to top button