সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, বাবার লাশ দাফনে মেয়ের বাঁধা

দাফনে বাঁধা দেওয়ার কারণে পড়ে আছে লাশ
জানা যায়, মৃত নাজির উদ্দিন বেপারীর দুই সন্তান—ছেলে ইদ্রিস আলী ও কন্যা হালিমা বেগম। বাবার মৃত্যুর পর দাফনের প্রস্তুতি চলার সময় মাইকিং করে এলাকাবাসীদেরও জানানো হয়। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই হালিমা বেগম জানিয়ে দেন, বাবার সম্পত্তিতে নিজের প্রাপ্য অংশ বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত দাফনে তিনি সম্মতি দেবেন না।
হালিমা বেগমের অভিযোগ, বাবার অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তাঁর ভাই ইদ্রিস আলী সম্পত্তি নিজের নামে করে নিয়েছেন। এ কারণে পৈতৃক সম্পত্তিতে তাঁর কোনো অংশ আর অবশিষ্ট নেই। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভাই-বোনের সম্পর্কে ভাঙন তৈরি হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ছাড়াও ধাপেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টরা মধ্যস্থতায় নামেন। এক বৈঠকে হালিমা বেগমকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর স্পষ্ট কথা, টাকার অঙ্ক নয়, তিনি চান সম্পত্তিতে তাঁর আইনগত অধিকার।
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বলছেন, সম্পত্তির বিরোধ যতই গুরুতর হোক, মৃত ব্যক্তির দাফন আটকে রাখা মানবিক দিক থেকে কষ্টদায়ক। আবার কেউ বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত থাকলে কন্যাসন্তানের ক্ষোভ ও দাবি জায়গা করে নেওয়াটাই স্বাভাবিক।
সম্পত্তি হস্তান্তরের বিষয়ে অভিযুক্ত ছেলে ইদ্রিস আলীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ধারণা, সম্পত্তি সংক্রান্ত দলিলপত্র যাচাই করা হলে বিরোধের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রবীণদের অভিমত, দেশের প্রচলিত আইনে কন্যাসন্তানেরও পৈতৃক সম্পত্তিতে সমান অধিকার রয়েছে। সম্পত্তি হস্তান্তর বা নামজারি নিয়ে যেকোনো বিরোধ আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা সম্ভব। পারিবারিক সমঝোতার মাধ্যমেও সমাধান হতে পারে। তবে মৃত ব্যক্তির দাফন আটকে রাখা কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত পরিণতি নয় বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।
এমন পরিস্থিতিতে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার পাশাপাশি সম্পত্তির ন্যায্য দাবি নিষ্পত্তির জন্য পারিবারিক আলোচনা ও প্রয়োজনে আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
source: The Daily Campus