৪৪তম বিসিএসের আনসার ক্যাডার নূরে আলম ৪৫তম’র গেজেটে পুলিশ ক্যাডার থেকে বাদ

৪৪তম বিসিএসে আনসার ক্যাডারে গেজেটভুক্ত হলেও ৪৫তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারের চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ পড়েছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহকারী পরিচালক মো. নূরে আলম। কেন তাকে চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে কী তথ্য উঠে এসেছে এবং নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ কেন পাননি—এসব প্রশ্ন তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।
স্ট্যাটাসে নূরে আলম লিখেছেন, ‘৪৪তম বিসিএসে আনসার ক্যাডারে গেজেটভুক্ত হলাম, অথচ ৪৫তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে চূড়ান্ত গেজেট থেকে বাদ পড়লাম! প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পরও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এমন কী তথ্য উঠে এল, যার কারণে আমাকে গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হলো? কী এমন তথ্য ছিল, যা আমাকে রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করার কারণ হয়ে দাঁড়াল? হয়তো গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আমাকে ছাত্রলীগের অনেক বড় নেতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে!
তিনি লেখেন, কলেজে পড়ার সময় দেশে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে তুমুল আন্দোলন চলছিল। ২০-দলীয় জোট একের পর এক কর্মসূচি পালন করছিল। তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভোটাধিকারের দাবিতে বর্তমান সরকারের কৃষিমন্ত্রী হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াসিন ভাইয়ের নেতৃত্বে শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ড, কান্দিরপাড় ও পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে নয়া পল্টনেও গিয়েছি। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রীর বক্তব্য পল্টনে খুব কাছ থেকে শোনার সুযোগ হয়েছিল। সেই সময়ের আন্দোলনের অনেক সহযোদ্ধা এখনো আমার ফেসবুক বন্ধুদের তালিকায় রয়েছেন।
আনসার ক্যাডার কর্মকর্তা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আবাসিক হলে থেকেছি। হলে থাকার কারণে ছাত্রলীগের বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিতে হয়েছে। তৎকালীন ক্যাম্পাসের বাস্তবতা সম্পর্কে যারা অবগত, তারা নিশ্চয়ই বিষয়টি জানেন। ক্যাম্পাসে কিংবা আবাসিক হলে কারও সঙ্গে কখনো উচ্চস্বরে কথা বলেছি—এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ আজ আমাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেন আমি ছাত্রলীগের অনেক বড় কোনো নেতা! অন্যদিকে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনেও ১৬ জুলাই থেকে অংশগ্রহণ করেছি। সেই আন্দোলনে আমার অংশগ্রহণের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ রয়েছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক সচেতনতা অর্জনের পর থেকে আমি সব সময় গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মানুষের ভোটাধিকারের পক্ষে থাকার চেষ্টা করেছি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলাম। ভেবেছিলাম, এবার হয়তো পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন হবে। কিন্তু আজও যদি সেই পুরোনো ধারারই পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে পরিবর্তনের প্রকৃত অর্থ কোথায়?
তিনি লেখেন, “আমি জানি না, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার কেন আমাকে ৪৫তম বিসিএসের পুলিশ ক্যাডারের গেজেট থেকে বাদ দিল। আমার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ঠিক কী তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, কিংবা কোন যুক্তিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—তা আমার জানা নেই। যদি আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থেকে থাকে, তবে সেই অভিযোগ সম্পর্কে জানার এবং তার জবাব দেওয়ার সুযোগ কি আমার প্রাপ্য নয়? প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পরও আমাকে কেন এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হলো, যাকে রাষ্ট্রের জন্য হুমকি মনে করা হতে পারে? আমার অপরাধটা ঠিক কোথায়? কার কাছে চাইব এই প্রশ্নগুলোর উত্তর?”
তিনি আরও বলেন, “আমি কারও প্রতি বিদ্বেষ ছড়াতে চাই না। শুধু জানতে চাই, আমার বিরুদ্ধে কী তথ্য ছিল, কী মূল্যায়নের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হলো এবং নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ কেন পেলাম না। আমি প্রতিশোধ চাই না, চাই প্রশ্নের উত্তর। আমি বিশেষ কোনো সুবিধা চাই না, চাই ন্যায়সংগত মূল্যায়ন। ধন্যবাদ সরকারের নীতিনির্ধারকদের। আশা করি, রাষ্ট্রের একজন নাগরিক ও প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হিসেবে আমার প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার মতো দায়িত্বশীল কেউ থাকবেন।”
নূরে আলম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন। তিনি সরকারি বেশ কয়েকটি চাকরিও করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহকারী পরিচালক মো. নূরে আলম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমি ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্বে ছিলাম। কোটা বিরোধী আন্দোলন করেছি। জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষে ছিলাম। এছাড়াও একটি সরকারী চাকরীতে কর্মরত আছি তারপরও আমাকে বাদ দেওয়া হলো।’
প্রসঙ্গত, ৩২২ দিনের অপেক্ষার পর ১৪ অক্টোবর (বুধবার) ৪৫তম বিসিএসে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। এর মধ্যে গেজেটের তালিকা থেকে বাদ পড়েন ১০৫ জন। ২ হাজার ৩০৯টি শূন্য পদের বিপরীতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বরে ৪৫ বিসিএসের সার্কুলার প্রকাশ করেছিল। সেসময় চলমান জটের কারনে তিন ধাপের; প্রিলিমিনারি, লিখিত, মৌখিক পরীক্ষা শেষ হতে সময় লেগে যায় ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত। পরে গত বছরের ৬ নভেম্বর ক্যাডার পদে মোট ১ হাজার ৮০৭ জনকে সাময়িকভাবে সুপারিশ করে ফলাফল প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। এদের মধ্যে বুধবার ১ হাজার ৭০২ জনের গেজেট প্রকাশ করে সরকার।
source: The Daily Campus