অ্যাপল-স্যামসাংয়ের জায়গায় ২০২৮ সালের মধ্যে ভারতের নিজস্ব মোবাইল আসছে: অশ্বিনী বৈষ্ণবের দাবি

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব আজ জানিয়েছেন যে, আগামী সপ্তাহগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক একটি পরামর্শপত্র (কনসালটেশন পেপার) প্রকাশ করবে কেন্দ্র। ‘এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় বৈষ্ণব জানান, এই পরামর্শপত্রে বিষয় বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ নাগরিক উভয় পক্ষ থেকেই প্রাপ্ত মতামত অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, “আমরা আগামী সপ্তাহগুলোতে একটি পরামর্শপত্র প্রকাশ করব। সেই পরামর্শপত্রের মাধ্যমে আমরা সমাজ, নাগরিক, শিল্পখাত এবং অংশীদারদের (স্টেকহোল্ডার) কাছ থেকে সমস্ত মতামত আহ্বান করব।”
এআই প্রযুক্তি যে অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করছে, তা কীভাবে সরকারগুলো কাজে লাগাবে এবং নিরাপত্তার উদ্বেগ ও এ ধরনের ব্যবস্থার ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ কতটুকু বজায় রাখা উচিত—এই দুইয়ের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রক্ষা করা যাবে তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলা বিতর্কের মধ্যেই এই ঘোষণাটি এলো।
তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের শিল্পখাত এআই খুব দ্রুত গ্রহণ করেছে। আমরা যখন ব্যাংক, উৎপাদন শিল্প, সেবা খাত, অর্থায়ন, বীমা এবং আর্থিক সেবা খাতগুলোর সাথে কথা বলি, তখন দেখা যায় সর্বত্রই মানুষ দ্রুত এআই ব্যবহার করছে। ভালো এআই কী সুফল এনে দিতে পারে সে সম্পর্কে একটি ভালো ধারণা রয়েছে, তেমনি এআই কী ক্ষতি করতে পারে তা নিয়েও ধারণা রয়েছে। তাই বিভিন্ন খাতে আজ সেই সচেতনতা তৈরি হয়েছে। আমরা প্রতিটি খাত থেকেই মতামত নিতে চাই।”
বৈষ্ণব ইঙ্গিত দেন যে, বড় ধরনের এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তুলছে এমন দেশগুলোকে এই প্রযুক্তির মূল্যায়ন কীভাবে করা উচিত সে সম্পর্কে একটি সাধারণ সমঝোতায় আসতে কাজ করতে হবে, যদিও তারা আরও সক্ষম মডেল এবং অ্যাপ্লিকেশন তৈরির জন্য একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করছে।
তিনি বলেন, “বিশ্বের শীর্ষ তিন বা চার এআই ইকোসিস্টেমের মধ্যে আমাদের মতো দেশগুলো সবাই একসঙ্গে বসবে এবং এমন কিছু মৌলিক নীতি নির্ধারণ করবে যার ভিত্তিতে এআই মূল্যায়ন করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “উদ্ভাবনের দৌড়কে মানুষের নিরাপত্তার মাধ্যমে সংযত করতে হবে। ইতিমধ্যেই কিছু নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একে ‘মানুষ প্রথম’ হতে হবে। এআই-কে হতে হবে মানবকেন্দ্রিক। এজেন্ট, মডেল, চূড়ান্ত ফলাফল এবং প্রক্রিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ যেন মানুষের হাতে থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সেগুলো বন্ধ করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। এসব নীতি ইতিমধ্যেই উঠে এসেছে।”
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও যোগ করেন, ২০২৮ সালের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবসার বৈশ্বিক শীর্ষ প্রতিষ্ঠান অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের মতো ভারতের নিজস্ব ব্র্যান্ড থাকবে।
দিল্লিতে এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিটে বৈষ্ণব বলেন, “আজ ২৩ অক্টোবর ২০২৬। অনুগ্রহ করে নোট করে রাখুন: ২৩ অক্টোবর ২০২৮। আপনার কাছে ভারত থেকে ডিজাইন করা, ভারতে নির্মিত এবং ভারতীয় ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন থাকবে।”
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
source: Barta Bazar