News

সেতু থেকে লাফিয়ে বাড়িতে আশ্রয় নেন যুবদল কর্মী কাওসার, সেখানেই কুপিয়ে হত্যা

বরিশালের উজিরপুরে যুবদল কর্মী কাওসার হাওলাদার হত্যাকাণ্ডের পর মামলার দুই আসামির বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের আলামদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মাইক্রোবাস জব্দসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যার আগে কাউসারসহ দুজন সেতু থেকে লাফিয়ে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিলেও সেখানেই তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলামদী গ্রামের খালপাড় বড় ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় হত্যা মামলার প্রধান আসামি সজল মোল্লার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। একই ইউনিয়নের ভরচ্ছন্ন এলাকায় নান্না মোল্লার বাড়িতেও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে।

উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। একটি টিনের ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছিল। দুর্গম অবস্থানের কারণে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছাতে পারেনি। ঘরটি পুড়ে যাওয়ার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আরেকটি ঘরেও আগুন দেওয়ার খবর পেয়েছেন তাঁরা। তবে এসব ঘটনায় কারা জড়িত, তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

সেতু থেকে লাফিয়ে বাড়িতে আশ্রয়, সেখানেই কুপিয়ে হত্যা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাতলা-কান্দি সড়কের উজিরপুর-কোটালীপাড়া সীমান্ত এলাকার একটি সেতুর ওপর কাওসার হাওলাদার ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রাশেদ আমিনের ওপর হামলা চালায় সশস্ত্র একটি দল। তাদের হাত থেকে বাঁচতে তাঁরা সেতু থেকে পানিতে ঝাঁপ দেন। পরে পাশের হাবিব হাওলাদার নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নেন।

অভিযোগ রয়েছে, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল তাঁদের ধাওয়া করে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে ঘরের খাটের নিচ থেকে কাওসারকে বের করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এ সময় দরজার আড়ালে লুকিয়ে প্রাণে বাঁচেন রাশেদ আমিন। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক কাওসারকে মৃত ঘোষণা করেন।

পদ্মা সেতু এলাকা থেকে গ্রেপ্তার ৯ জন
হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার সময় শুক্রবার রাতে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা এলাকা থেকে মাইক্রোবাসসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে উজিরপুর মডেল থানা পুলিশ। প্রযুক্তির সহায়তায় তাঁদের শনাক্ত ও আটক করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

আরও খবর: গাজীপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- সজল মোল্লা, শামীম মোল্লা, তরিকুল ইসলাম, সোহাগ, সাগর শেখ, হাসিব শেখ, হাবিব শেখ, মাহাবুবুর রহমান ও শরীফ হোসেন। তাঁদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

জোড়া খুনের জেরে হত্যার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে সাতলায় ঘটে যাওয়া জোড়া খুনের ঘটনার জেরে কাওসারকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

নিহত কাওসারের ভাই মোস্তফা হাওলাদার বাদী হয়ে শনিবার উজিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। একই দিন এশার নামাজের পর জানাজা শেষে কাওসার হাওলাদারের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অগ্নিসংযোগে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

source: The Daily Campus

Leave a Reply

Back to top button