News

বিএনপির কার্যালয়ই ‘সার গুদাম’, ডিলারশিপ পেলেন নেতার ভাই

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বিএনপির ইউনিয়ন কার্যালয় সার গুদাম হিসেবে দেখিয়ে বিসিআইসির ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। খোদ্দ কোমরপুর ইউনিয়নের ‘সাহাদুল ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী মো. সাহাদুল ইসলামের ডিলারশিপের গুদাম হিসেবে চিহ্নিত স্থাপনাটিতে দলীয় কার্যালয়ের ব্যানার, ফেস্টুন ও নেতাকর্মীদের ছবি দেখা গেছে। এ ছাড়া ডিলারশিপের আবেদনে দাখিল করা কাগজপত্রের সত্যতা ও তার ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সরেজমিন দেখা যায়, সাহাদুল ট্রেডার্সের ডিলারশিপের জন্য গুদাম হিসেবে চিহ্নিত স্থাপনাটিই খোদ্দ কোমরপুর ইউনিয়ন বিএনপির দলীয় কার্যালয়। অফিসের ভেতরে দলীয় নেতাকর্মীদের ছবি, ব্যানার ও ফেস্টুন স্পষ্ট দেখা গেছে। ফলে একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়কে সারের গুদাম দেখিয়ে কীভাবে ডিলারশিপের অনুমোদন দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ডিলারশিপের আবেদনে সাহাদুল ইসলাম যে ট্রেড লাইসেন্স ও আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন, সেগুলোর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাদের দাবি, এসব নথির বৈধতা ও যথার্থতা তদন্ত করে দেখা উচিত। পাশাপাশি তারা জানান, সার কেনাবেচা বা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় সাহাদুল ইসলামের আগে কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। সরকারি নীতিমালায় ডিলার নিয়োগে অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার যে শর্ত রয়েছে, তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

এদিকে সাহাদুল ট্রেডার্সের মালিক সাহাদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় স্থানান্তর করা হচ্ছে, তাই আপাতত এখানে মাঝেমধ্যে দলীয় নেতাকর্মীরা বসেন।

তার ও পরিবারের দলীয় পরিচয় আছে কি না-জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি বিএনপির সমর্থক এবং তার বড় ভাই সামিউল ইসলাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রওজাতুন জান্নাতকে ফোন করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে ডিলারশিপ অনুমোদন, গুদাম পরিদর্শন ও অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, সারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উপকরণের ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা যাচাই ও সরকারি নীতিমালার যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি এবং কৃষি বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ডিলারশিপের জন্য দাখিল করা কাগজপত্র, গুদামের বাস্তব অবস্থা, অনুমোদন প্রক্রিয়া ও ব্যবসায়িক যোগ্যতা যাচাই করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে ডিলারশিপ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

source: The Daily Campus

Leave a Reply

Back to top button