News

বাংলাদেশ ও ভারতকে ‘চোরের দেশ’ বললেন, আরপিসিএল বোর্ডের পরিচালক শহিদুল

বাংলাদেশ ও ভারতকে চোরের দেশ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) সদস্য (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) শহিদুল ইসলাম।

জামালপুরের মাদারগঞ্জে গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নির্মাণাধীন ১০০ মেগাওয়াট আরপিসিএল সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট পরিদর্শনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এসময় তিনি বলেন, “আরে, বাংলাদেশে সবচেয়ে ব্যর্থ হলো ইন্ডিয়ানরা-আমি আগেও বলছি। হ্যাঁ, সবচেয়ে ব্যর্থ। চায়নারাও চোর আছে, কিন্ত ওদের যখন চুরি ধরা পড়ে, এত শাই ফিল করে, সাথে সাথে পালায়া যেয়ে এই মালগুলো নিয়ে আও, তাড়াতাড়ি এনে দিচ্ছি। কেউ যেন না জানে।”

শহিদুল ইসলাম আরও বলেন, “হ্যাঁ, কিন্তু এরা আরগু। আমি পচা বিচি ওই গুঁই খাও। হ্যাঁ, আরগু মামলা, মোকদ্দমা-মানে জানে যে ইন্ডিয়াও চোরের দেশ, বাংলাদেশও চোরের দেশ। সবই চলে এখানে। হ্যাঁ, ঘুষ, ঘাস, অমুক-তমুক দিয়ে-মানে অবৈধটাকে বৈধ করা যায়। মানে এই নীতিতে তারা থাকে।”

‘হ্যাঁ, তাই ইন্ডিয়ান ভেবে কেউ নাই। থাকলেও কোনো আমার কিছু আসে যায় না, কারণ সত্য কথা আমি সবার সামনে বলেছি’-উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে প্রায় ২১২ কোটি টাকার ঠিকাদারি বিল বকেয়া থাকা এবং মূল প্রাক্কলিত ব্যয় থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ছাঁটাই করার কারণে জামালপুরের ১০০ মেগাওয়াট মাদারগঞ্জ সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

প্রকল্পের সাথে যুক্ত প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাস্তবায়নকারী সংস্থা রুর্যাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল) গত বছরের নভেম্বর থেকে প্রায় ২১২ কোটি টাকার বিল আটকে রেখেছে, যার ফলে তখন থেকেই নির্মাণকাজ স্থগিত রয়েছে।

মাদারগঞ্জ উপজেলার কাইজার চর এলাকায় ৩১৬.৬৫ একর জমিতে ২০২১ সাল থেকে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়ে আসছে।

কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের ১৮ জুলাই ৫০ মেগাওয়াট সম্মিলিত ক্ষমতার সৌর মডিউল প্রকল্প এলাকায় পৌঁছালেও আরপিসিএল পোস্ট-ল্যান্ডিং পরিদর্শন (পিএলআই) শেষ না করায় সেগুলো এখনো স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

পরিস্থিতি পরিদর্শনের জন্য আরপিসিএল-এর একটি প্রতিনিধি দল গত শুক্রবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে। তবে ব্যয় ছাঁটাই, বারবার নকশা পরিবর্তন, দীর্ঘ দিন বিল বকেয়া রাখা এবং ধীরগতি সম্পর্কিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

আরপিসিএল বোর্ডের পরিচালক শহিদুল ইসলাম এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি এবং প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীর মজুমদারও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এআর

source: Barta Bazar

Leave a Reply

Back to top button