News

ইসরায়েলের নির্বাচনে সব ভোট গণনা শেষ, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো দল

ইসরায়েলের ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে সব ভোট গণনা শেষে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন নেতানিয়াহুবিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভোরে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি (সিইসি)।

ভুলত্রুটি বা অভিযোগ নিয়ে শেষ পর্যায়ের অনুসন্ধান শেষ হলে আগামী বুধবার প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে আনুষ্ঠানিক ফল তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য কাকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত, সে বিষয়ে সুপারিশ জানাতে প্রেসিডেন্ট প্রতিটি দলের নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন।

চূড়ান্ত হিসাবে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। কয়েক দশকের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি। মোট ভোট দিয়েছেন ৫৭ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৫ জন।

চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, লিকুদ পেয়েছে ২৭টি আসন, ইয়াশার ২১টি, বিয়াখাদ ১২টি, জয়েন্ট লিস্ট ১১টি, ডেমোক্র্যাটস আটটি, রা’আম আটটি, ইসরায়েল বেইতেনু সাতটি, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম সাতটি, ওতজমা ইয়েহুদিত সাতটি, শাস ছয়টি এবং রিলিজিয়াস জায়োনিজম ছয়টি আসন।

ইয়োয়াজ হেন্ডেলের রিজার্ভিস্টস-ইকোনমিক পার্টি ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচনী সীমা ৩ দশমিক ২৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। অফের উইন্টারের পিপল অব ইসরায়েল পার্টিও মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অতি-গোঁড়া ইহুদি সম্প্রদায়ের জন্য বিকল্প রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা চেরেদি পাবলিক পার্টি পেয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ ভোট।

এই ফলাফলে নেতানিয়াহুপন্থী জোটের আসন ৫৩টি, নেতানিয়াহুবিরোধী জোটের ৪৮টি এবং আরব দলগুলোর ১৯টি। বিদায়ী পার্লামেন্টে বর্তমান সরকার গঠনকারী নেতানিয়াহুপন্থী দলগুলোর আসন ছিল ৬৮টি। এবার তাদের আসন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম মিলে পেয়েছে রেকর্ড ১৯টি আসন। বর্তমান পার্লামেন্টে দল দুটির সম্মিলিত আসন ১০টি। জায়োনিস্ট শিবিরের ডেমোক্র্যাটস ছাড়া অন্য দলগুলো রা’আম বা জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে সহযোগিতা করতে রাজি না হওয়ায় এই আসনগুলো নেতানিয়াহুবিরোধী জোটকে সহজেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দিতে পারছে না।

শুক্রবার ভোরে দেওয়া বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডিন লিভনের দেওয়া বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভোটে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এবং নির্বাচন প্রভাবিত করতে কাতারের সম্ভাব্য প্রচারণা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে কমিটি এ অবস্থান জানায়।

লিভনে বলেন, ‘সারাদিন প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।’ তিনি আরও বলেন, তদন্তের ফল প্রেসিডেন্টের কাছে জমা দেওয়া চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলবে না। এ ছাড়া জনসংখ্যার কোনো নির্দিষ্ট অংশকে লক্ষ্য করেও এই তদন্ত করা হচ্ছে না।

পরবর্তী সরকার গঠনের আলোচনা যেমনই এগোক না কেন, আগামী ১০ নভেম্বর নেসেটের নতুন সদস্যদের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকার গঠনের আলোচনা বেশ জটিল হতে পারে এবং দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, কোনো জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের কাছাকাছি নেই।

বুধবার প্রেসিডেন্ট হারজগ দলগুলোর নেতাদের আরেক দফা নির্বাচন এড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘গতকালের পর আমাদের অবশ্যই আরেক দফা নির্বাচন এড়াতে যা করা সম্ভব, সব করতে হবে। তাই আমার প্রত্যাশা, এখানে যারা আসবেন, তারা সবাই খোলা মন নিয়ে আসবেন।’

নেতানিয়াহু ও আইজেনকট- দুজনই পরবর্তী সরকার গঠনের বিষয়ে নিজেদের প্রত্যয় জানিয়েছেন।

মঙ্গলবারের এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তিন বছরের একটি অস্থির রাজনৈতিক সময়ের অবসানের চার বছর পর। ওই তিন বছরে ইসরায়েলে পাঁচবার নির্বাচন হয়েছিল। প্রথম চারবারের কোনোটিতেই স্থিতিশীল সরকার গঠন সম্ভব হয়নি।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

শু

source: Barta Bazar

Leave a Reply

Back to top button