অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় সাবেক ডিবি প্রধান হারুন বরখাস্ত

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ও সাবেক ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার দায়ে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বরখাস্তের আদেশ ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হারুন-অর-রশীদের খোঁজ পাওনা যায়নি। তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। বিভিন্ন সূত্র ও গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, তিনি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পথে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দেশত্যাগ করেছেন। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক বা টেক্সাসে অবস্থান করছেন। ইতিমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত তার কয়েক শত বিঘা জমি, বহুতল ভবন ও ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দিয়েছেন।
মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ ২০০১ সালে ২০তম বিসিএস-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে যোগদান করেন। ২০১১ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুককে ঢাকার রাস্তায় নির্মমভাবে মারধর করে তিনি প্রথমে আলোচনায় আসেন। এরপর গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) এবং ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তৎকালীন স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার কেন্দ্রে তিনি নিজের অবস্থান শক্ত করেন।
২০২২ সালের ১৩ জুলাই তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান হিসেবে পদায়ন করা হয়। ডিবি প্রধান থাকাকালীন তিনি সাধারণ মানুষকে ধরে এনে জোরপূর্বক ভাত খাওয়ানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ছবি ও ভিডিও প্রচার করে তীব্র ট্রল ও সমালোচনার শিকার হন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে হারুন-অর-রশীদ অত্যন্ত বিতর্কিত ও আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালন করেন। আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কদের জোরপূর্বক ডিবি কার্যালয়ে আটকে রেখে অস্ত্রের মুখে তাদের দিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি প্রত্যাহারের বিবৃতি রেকর্ড করান এবং সেই ভিডিও প্রকাশ করেন। যা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়।
এই ঘটনার জেরে তীব্র সমালোচনার মুখে ৩১ জুলাই ২০২৪ তারিখে তাকে ডিবি প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে ডিএমপির ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগে বদলি করা হয়। তবে বদলি হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঠেকাতে তিনি পুলিশ প্রশাসনের নীতিগত কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিলেন। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটলে হারুন-অর-রশীদের দীর্ঘদিনের ক্ষমতার দাপটের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।
source: The Dhaka Diary