গোপনে নারীদের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইল: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গণপিটুনি

বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় নারীদের গোপনে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ও তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে এক স্থানীয় যুবনেতাকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম বায়জীদ হোসেন মিঠু, যিনি উজিরপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) গভীর রাতে উজিরপুর শহরের উপজেলা পরিষদ এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানান, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত বায়জীদ হোসেন মিঠু দীর্ঘদিন ধরে রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন সাধারণ মানুষের বাসাবাড়ির জানালা ও বাথরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে নারীদের অজান্তে গোপনীয় ভিডিও ধারণ করে আসছিলেন। পরবর্তী সময়ে এই স্পর্শকাতর ও গোপন ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট নারীদের নানা ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপে বাধ্য করা এবং ব্ল্যাকমেইল করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
শনিবার গভীর রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকার একটি নির্দিষ্ট বাসার ভেন্টিলেটর দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ করার সময় বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের নজরে আসে। জনরোষ ও ক্ষোভের মুখে এলাকাবাসী তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে উত্তমমধ্যম (গণপিটুনি) দেয়। খবর পেয়ে উজিরপুর মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটকের পর অভিযুক্ত বায়জীদ হোসেন মিঠুর ব্যবহৃত মুঠোফোন তল্লাশি করা হলে বেশ কিছু আপত্তিকর ডিজিটাল ক্লিপ উদ্ধার করা হয়। মোবাইল থেকে অন্তত পাঁচটি গোপন ভিডিও পাওয়া গেছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। উদ্ধারকৃত এসব ভিডিওর মূল বিষয়বস্তু এবং এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবার বা ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ সাপেক্ষে এবং তদন্তে অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
source: Azadir Dak