বিএনপি নেতার ছেলেকে চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকি

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় চাঁদা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় ‘কালাইয়া-দাসপাড়া নির্মাণ সামগ্রী মালিক সমিতির’ সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার দোকান বন্ধ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার কালাইয়া ধান হাট সেতুর পশ্চিম পাশে দাসপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে শুক্রবার ধর্মঘটের খবর পেয়ে ওই আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি চাঁদাবাজি বন্ধসহ দ্রুত ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে ব্যবসায়ীরা দোকান খুলতে রাজি হন এবং দুপুর ১২টার দিকে দোকান খোলেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব হোসেন প্যাদার (৫৫) ছেলে মো. শান্ত প্যাদাসহ (২২) কয়েকজন নিয়মিত চাঁদা নিতেন।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কালাইয়া ধান হাট সেতু-সংলগ্ন পশ্চিম পাশে দাসপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ৩২ জন ব্যবসায়ীর দোকান রয়েছে। তাদের রয়েছে দাসপাড়া-কালাইয়া নির্মাণ সামগ্রী মালিক সমিতি। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রলার ও কার্গোতে করে বড়, সিমেন্ট, বালু, পাথরসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী এনে ব্যবসা করেন। প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ টি ট্রলার ও কার্গো এখানে আসে। প্রত্যেক ট্রলার ও কার্গো বাবদ ব্যবসায়ীদের এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়।
পটুয়াখালীতে হামলা-ভাঙচুরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ জামায়াত-বিএনপিরপটুয়াখালীতে হামলা-ভাঙচুরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ জামায়াত-বিএনপির
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা বলেন, গত বুধবার সন্ধ্যার দিকে জরুরি সভা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা আর চাঁদা দিবেন না। এতে ক্ষুব্ধ হন শান্ত প্যাদা। গত বৃহস্পতিবার সকালে শান্ত চাঁদা নিতে আসলে সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তখন তাকে (মোস্তাফিজুর রহমান) প্রকাশ্যে মেরে ফেলার হুমকি দেন শান্ত। পরে এ নিয়ে থানায় অভিযোগ করা হলে শান্ত আরও ক্ষুব্ধ হন।
সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘শান্তর কাছে সব সময় অস্ত্র থাকে। এই কারণে ভয়ের মধ্যে আছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে শান্তর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার বাবা বিএনপি নেতা সোহরাব হোসেন প্যাদা বলেন, দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরীর কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকায় জলমহল কিনেছি। এ কারণে শান্ত ট্রলার প্রতি ২০০ টাকা করে নেয়। এটা কোনো চাঁদাবাজি নয়।
উপজেলা ভূমি কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কালাইয়া ও দাসপাড়া খাল জলমহল হিসেবে কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি।
বিএনপি নেতা আলী আজমের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আমার আসনে কোনো চাঁদাবাজি চলবে না। ব্যবসায়ীরা অবশ্যই নির্বিঘ্নে ব্যবসা করবেন। প্রয়োজনে জীবন বাজি রেখে চাঁদাবাজমুক্ত বাউফল গড়ে তুলবো।
পটুয়াখালীর সহকারী পুলিশ সুপার (বাউফল সার্কেল) আরিফ মুহাম্মদ শাকুর বলেন, ‘সংসদ সদস্য মহোদয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বার্তা বাজার/এস এইচ
প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু
Source: bartabazar.com

