Bd বাংলাদেশ

আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ ৩০ শীর্ষ কর্তার মৃত্যু হয় মাত্র ১ মিনিটে!

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:

নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামেনি। শুধু তিনিই নয়, একই সময়ে নিহত হয়েছে আরও অর্ধ-শতাধিক শীর্ষ নেতা; যেখানে প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ বিভিন্ন শৃঙ্খলায় বাহিনীতে দায়িত্বরতরা রয়েছে।

সূত্রের তথ্য, আলি খামেনির অবস্থান সম্পর্কে ইসরায়েলকে ‘হাই ফিডেলিটি’ বা অত্যন্ত নির্ভুল তথ্য দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। মূলত সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ‘রোরিং লায়ন’ অভিযান পরিচালনা করে ইসরায়েল। খবর নিউ ইয়র্ক টাইমসের।

ইসরায়েলি সংবাদ মাধ্যম চ্যানেল-১২ বলছে, হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ইরানের মোট ৩০ জন জ্যেষ্ঠ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে; যাদের সবাই নিহত হয় মাত্র এক মিনিটের মধ্যে।

চ্যানেল-১২ এর ওয়েবসাইট এন ১২-তে উল্লেখ, ইসরায়েলি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহল জোর দিয়ে বলছে, তারা অভিযান কেবল শুরু করেছে। আগামী কয়েকদিন অভিযান অব্যাহত থাকবে। অন্যান্য ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যে নিবিড় পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা সহযোগিতার কথা গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করছে।

তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ইয়োভ লিমোর সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে শিগগিরই মতপার্থক্য তৈরি হতে পারে। এই সংঘাত কয়েক দিন বা সপ্তাহ, এমনকি আরও দীর্ঘ সময় চালিয়ে নেওয়ার মতো ধৈর্য ও প্রস্তুতি ইসরায়েলের থাকলেও ট্রাম্পের সেই ধৈর্য বজায় থাকবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

‘আমেরিকার জন্য এটি পছন্দের যুদ্ধ। কিন্তু ইসরায়েলের জন্য এটি প্রয়োজনের। এই গণমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ণ সমর্থন থাকার পরও মার্কিন জনমত ইসরায়েলের বিপক্ষে চলে যাওয়ার ঝুঁকি আছে।’

ইসরায়েলি গণমাধ্যম ‘ইয়েদিওথ আহরোনোথ’ বলছে, আমেরিকার জন্য এটি পছন্দের যুদ্ধ। কিন্তু ইসরায়েলের জন্য এটি প্রয়োজনের। এই গণমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ণ সমর্থন থাকার পরও মার্কিন জনমত ইসরায়েলের বিপক্ষে চলে যাওয়ার ঝুঁকি আছে।

ইসরায়েলের স্থানীয় সময় অনুযায়ী শনিবার সকাল ৬টার দিকে অভিযান শুরু হয়। ওই সময় যুদ্ধবিমানগুলো ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। হামলায় তুলনামূলক কম বিমান ব্যবহার হয়। কিন্তু যেগুলো ব্যবহার করা হয় সেগুলো ছিল দূরপাল্লার ও অত্যন্ত নির্ভুল অস্ত্রে সজ্জিত।যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের দুই ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর, তেহরানের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কম্পাউন্ডে আঘাত হানে। হামলার সময় জ্যেষ্ঠ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা কম্পাউন্ডের একটি ভবনে ছিলেন এবং খামেনি পার্শ্ববর্তী অন্য একটি ভবনে ছিলেন।

পড়ুন: আইআরজিসির নতুন কমান্ডার আহমাদ ভাহিদি

হামলার সময় জ্যেষ্ঠ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা একটি ভবনে অবস্থান করছিলেন এবং খামেনি পাশের আরেকটি ভবনে ছিলেন বলে দাবি করা হয়। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার এক বার্তায় বলা হয়েছে, তেহরানের বিভিন্ন স্থানে একযোগে হামলা চালিয়ে কৌশলগত চমক সৃষ্টি করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, হামলায় দুজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী শামখানি ও আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের জুনে ১২ দিনের সংঘাতের পর থেকেই মূলত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ওপর গোয়েন্দা নজরদারি জোরালো করে। শনিবারের হামলা তাদের লক্ষ্য যেমন পূরণ করেছে, তেমনি ইরানের ব্যর্থতাও তুলে ধরেছে। কারণ, প্রতিনিয়ত যুদ্ধ ও হত্যার হুমকি পাওয়ার পরও ইরানি কর্মকর্তারা যথেষ্ট নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে পারেননি।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার লেখা একটি বার্তা দেখার সুযোগ পেয়েছে। সেখানে লেখা, ‘আজ (শনিবার) সকালের হামলাটি তেহরানের বেশ কয়েকটি স্থানে একই সঙ্গে চালানো হয়েছে। এর একটিতে ইরানের রাজনীতি ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট শীর্ষ ব্যক্তিরা একত্রিত হয়েছিলেন।’ বার্তায় ওই কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধের জন্য ইরানের প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল এই হামলায় কৌশলগত চমক দেখাতে সক্ষম হয়েছে।

অভিযানটির বিষয়ে জানতে হোয়াইট হাউস এবং সিআইএয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল টাইমস। তবে তাদের কেউ মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ইউরোপের দেশ সাইপ্রাসে হামলা চালিয়েছে ইরান

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু

Source: thedailycampus.com

Leave a Reply

Back to top button