Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
Bd বাংলাদেশ

তুরস্কের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৬ হাজার কিমি, শব্দের চেয়ে ২৫ গুণ বেগে আঘাত হানতে পারবে ইউরোপ-আফ্রিকা-এশিয়ায়

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রথমবারের মতো একটি দূরপাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করেছে তুরস্ক। মঙ্গলবার ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত 'সাহা এক্সপো'তে এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়াসার গুলার এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তুর্কি প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম জানিয়েছে, আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকারী সীমিত সংখ্যক দেশের তালিকায় তুরস্ক এখন যুক্ত হয়েছে।

তুরস্ক তাদের এই ক্ষেপণাস্ত্রের নাম দিয়েছে 'ইয়েলদিরিমহান'। এর পাল্লা ৬ হাজার কিলোমিটার বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিস্তৃত এলাকায় আঘাত হানার সক্ষমতা রয়েছে বলে জানানো হয়। ন্যাটোর সদস্য দেশ হিসেবে তুরস্ক এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করেছে।

ক্ষেপণাস্ত্রটিতে চারটি ইঞ্জিন রয়েছে এবং এটি তরল নাইট্রোজেন টেট্রোক্সাইড জ্বালানি ব্যবহার করে। এর গতি শব্দের চেয়ে ৯ থেকে ২৫ গুণ বেশি হতে পারে। এটি প্রায় ৩,০০০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক বহনে সক্ষম। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র নিজস্ব প্রযুক্তিতে এটি তৈরি করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুরস্ক তাদের প্রতিরক্ষা শিল্প দ্রুত সম্প্রসারণ করেছে। দেশটির কোম্পানিগুলো নিয়মিত নতুন অস্ত্র তৈরি করছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করছে। আঙ্কারা অস্ত্র রপ্তানিকে বৈদেশিক নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। তুলনামূলক কম দামের কারণে তুরস্কের অস্ত্র অনেক দেশের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়াসার গুলার বলেন, 'এই যুগে যেখানে অর্থনৈতিক খরচ একটি অসম মরণাস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে তুরস্ক তার মিত্রদের শুধু অস্ত্র ব্যবস্থাপনাই দিচ্ছে না, বরং প্রযুক্তি এবং একটি টেকসই নিরাপত্তা অর্থনীতিও উপহার দিচ্ছে।'

তিনি আরও বলেন, 'প্রিসিশন-গাইডেড মিউনিশন বা নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদে সক্ষম গোলাবারুদগুলো ন্যাটোর মানদণ্ড অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে এবং এগুলো সাশ্রয়ী হওয়ায় বিভিন্ন দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।'

তুরস্ক কৌশলগত প্রয়োজন থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে সাম্প্রতিক সংঘাত দেশটির নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়েছে। প্রতিবেশী ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটো বাহিনী ভূপাতিত করার ঘটনাও তুরস্ককে সতর্ক করেছে। পাশাপাশি ইউক্রেন ও সিরিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিও দেশটিকে নতুন প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলতে উৎসাহ দিয়েছে।

গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এটি তুরস্কের প্রথম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২০২৬ সালের সাহা প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রদর্শনীতে এর আনুষ্ঠানিক উন্মোচন হয়েছে।

উন্মোচনের সময় ক্ষেপণাস্ত্রটির কার্যকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিগত বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা এই সক্ষমতা অর্জন করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের সামরিক শক্তি বাড়াবে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বাজারে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু

Source: thedeltalens.com

Leave a Reply

Back to top button