ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি কোথায় আছেন?

ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে ইরানে অবস্থান করছেন না বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে সৌদি আরবভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আল হাদাথ। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল আল হাদাথের এই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে খবরটি প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁকে আর কখনো জনসমক্ষে উপস্থিত হতে দেখা যায়নি। তিনি এখন পর্যন্ত কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমেই সমস্ত যোগাযোগ রক্ষা করে আসছেন।
ইসরায়েলি কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা সূত্রগুলোর দাবি, মোজতবা খামেনির নামে বর্তমানে যেসব রাষ্ট্রীয় বার্তা ও নির্দেশনা প্রকাশিত হচ্ছে, তা বাস্তবে তিনি নিজে লিখছেন না। বার্তাগুলো মূলত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নতুন প্রধান আহমদ বাহিদি এবং বাহিনীটির উচ্চপদস্থ অন্য সদস্যদের যৌথ মস্তিস্কপ্রসূত। মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতিতে আইআরজিসির শীর্ষ নেতারাই এখন নেপথ্য থেকে ক্ষমতার লাগাম টেনে ধরেছেন।
উক্ত সূত্রের আরও দাবি, বিগত কিছুদিন ধরে চলা তীব্র ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে ইরানের অভ্যন্তরীণ ও রাজনৈতিক বিভাজন চরম ও গভীর আকার ধারণ করেছে। প্রশাসনের ভেতরের এই অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও ফাটল খোদ আইআরজিসির নিজেদের অস্তিত্বের জন্যও বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একই সূত্র মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে দাবি করেছে, ইরান যদি পরবর্তীতে ইসরায়েলের ওপর নতুন করে কোনো প্রতিশোধমূলক পাল্টা হামলা চালায়, তবুও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায় না যে ইসরায়েল এককভাবে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই সরাসরি সামরিক সংঘাত বা হামলায় অংশগ্রহণ করুক। ওয়াশিংটন এই যুদ্ধকে আর দীর্ঘায়িত করতে ইচ্ছুক নয়।
তবে সৌদি ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই সব বিস্ফোরক ও সংবেদনশীল দাবির বিষয়ে তেহরান বা ইরানের সরকারি কোনো মহলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য বা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
source: Azadir Dak

