Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
Uncategorized

সমাজের নিকৃষ্ট মানুষ আওয়ামী লীগ করে: বিদ্যুৎমন্ত্রী

আওয়ামী লীগকে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক খাতের ধ্বংসের মূল কারিগর আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি মন্তব্য করে বলেন, ‘সমাজের নিকৃষ্ট মানুষই কেবল আওয়ামী লীগ করে, কোনো ভদ্রলোক আওয়ামী লীগ করতে পারে না। সরকারে থাকার অর্থ এই নয় যে, কেউ অনেক বড় কিছু হয়ে গেছে। ক্ষমতার মোহে অন্ধ না হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে এবং সব ধরনের খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।’

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জের মিরপুরে নবনির্মিত ‘তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টার’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কড়া সমালোচনা করেন। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

দেশের তাঁতশিল্পের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও বর্তমান দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী টুকু বলেন, এক সময় এই তাঁতশিল্পের অর্জিত অর্থ ও রাজস্বের ওপর ভর করেই তৎকালীন পাকিস্তানের অর্থনীতি সমৃদ্ধ ও গতিশীল হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ নীতিগত ও কাঠামোগতভাবে এ ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছে। আওয়ামী লীগ শুধু বিগত ১৭ বছরই নয়, বরং তাদের রাজনৈতিক জন্মলগ্ন থেকেই ধারাবাহিকভাবে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি করে গেছে। এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে গিয়ে দেশের বহু মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে এবং অসংখ্য মানুষ বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অভূতপূর্ব সাফল্যের কথা স্মরণ করে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেশে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী পতনের পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে দেশের কোনো সাধারণ ভোটারকে ভয়ভীতি দেখানো হয়নি, কাউকে ভোটকেন্দ্রে যেতে ন্যূনতম বাধা দেওয়া হয়নি। বিগত আমলগুলোর মতো এবার দিনে ভোট রাতে গণনা করার মতো কোনো কলঙ্কজনক বা জালিয়াতির ঘটনা ঘটেনি। একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়েই বর্তমানের এই জনবান্ধব সরকার গঠিত হয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ স্বৈরশাসনের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘শেখ হাসিনা যখন অবৈধভাবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন, তখন আমি বুক ফুলিয়ে বলেছিলাম—হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীন আমি জীবিত অবস্থায় এই দেশে আর পা রাখব না; যদি ফিরতেই হয়, তবে আমার লাশ ফিরবে। কিন্তু আল্লাহর অসীম ইচ্ছায় ও ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে সেই খুনি হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন, আর আমি পূর্ণ মর্যাদা নিয়ে স্বাধীন ও মুক্ত স্বদেশে ফিরে এসেছি।’

অনুষ্ঠানে গ্রামীণ অর্থনীতিতে তাঁতশিল্পের অপরিসীম গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এই আধুনিক সেন্টারে যথাযথ প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই খাতের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এক সময় দেশের বড় উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।

উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুসহ স্থানীয় প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

source: Azadir Dak

Leave a Reply

Back to top button