ছেলেকে বিসিবিতে পদ ও এস আলমকে পুনর্বাসনই কি জুলাইয়ের চেতনা? প্রশ্ন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘জুলাই চেতনা বিক্রি করে বেশি দিন রাজনীতি করা যাবে না’—এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, এই কথার সঙ্গে নীতিগতভাবে দ্বিমত করার কোনো সুযোগ না থাকলেও, আসলে কারা প্রকৃত অর্থে জুলাই চেতনা বিক্রি করছে, তা জনগণের সামনে স্পষ্ট হওয়া দরকার।
ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, জুলাই চেতনা বিক্রি করে নিজের ছেলেকে ক্রিকেট বোর্ডে প্রভাবশালী পদে বসানো এবং বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলমকে পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এই ঐতিহাসিক চেতনাকে পুঁজি করে দেশজুড়ে জমি, মাছের ঘের ও সাধারণ মানুষের সম্পদ দখলের নোংরা রাজনীতি চলছে, যা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে চরম প্রতারণা।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও লিখেছেন, জুলাই আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে একদিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে নীরব সমঝোতার মাধ্যমে প্রশাসনিক সুবিধা ও তাদের দলীয় অফিস খুলে দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গাড়ি ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের মতো ভয়াবহ সব অপরাধমূলক অভিযোগের জন্ম দেওয়া হচ্ছে। সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক নির্বিচারে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যাকে ‘হত্যা’ বলতে না পারা এবং পুশ-ইন প্রক্রিয়াকে কার্যত বৈধতা দিয়ে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার মতো নতজানু নীতিও জুলাই চেতনার প্রতি এক ধরনের স্পষ্ট বিশ্বাসঘাতকতা।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর পোস্টে দেশের বর্তমান চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলদারিত্ব, খুন ও ধর্ষণের রাজত্ব প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যারা একসময় স্বৈরাচারী মুজিববাদী সংবিধানের একনিষ্ঠ কর্মী ও সমর্থক ছিলেন, আজ তারাই ভোল পাল্টে নিজেদের জুলাইয়ের একমাত্র অভিভাবক হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন। এমনকি অতীতে যারা জুলাই আন্দোলনকে নানাভাবে কটাক্ষ ও প্রশ্নবিদ্ধ করেছিলেন, আজ তারাই সেই চেতনার প্রধান ভাষ্যকার সেজে বসেছেন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদসহ তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শের কড়া সমালোচনা করে বলেন, সালাহউদ্দিন আহমেদের মতো জুলাই-বিদ্বেষী অবস্থানের রাজনীতিকদের পুনর্বাসন করে যদি কেউ মনে করেন দেশের সাধারণ জনগণ সবকিছু ভুলে যাবে, তবে সেটি হবে চরম রাজনৈতিক ভুল হিসাব। তিনি স্পষ্ট করে মনে করিয়ে দেন যে, জুলাই কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা সরকারের নিজস্ব সম্পত্তি নয়; এটি শহীদদের রক্ত, আহতদের ত্যাগ এবং সামগ্রিক জনগণের গণ-অভ্যুত্থানের এক পবিত্র প্রতীক, যা কেবল মুখে না রেখে কাজের মাধ্যমে বাস্তবায়নের দাবি রাখে।
source: Azadir Dak

