সর্বশেষ

সৌদি আরবকে পরমাণু কর্মসূচির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র, উদ্বিগ্ন ইসরায়েল

সৌদি আরবে বাণিজ্যিক ও বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশটির সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুমোদন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিবিসির সূত্রে জানা গেছে, এই চুক্তির আওতায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে ভবিষ্যতে নিজস্ব মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পথ উন্মুক্ত হতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মোট মূল্যমান শত শত কোটি (বিলিয়ন) ডলারে পৌঁছাবে। চুক্তির সুবাদে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি আরবের পারমাণবিক অবকাঠামো নির্মাণের সুযোগ পাবে, যা বৈশ্বিক প্রতিযোগী সংস্থাগুলোকে এই ক্ষেত্র থেকে অনেকটাই পিছিয়ে দেবে।

চুক্তির শর্তানুসারে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ পর্যালোচনার পর মার্কিন প্রতিষ্ঠানের তৈরি পারমাণবিক কেন্দ্রেই সৌদি আরবকে নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। এটি ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করা চুক্তির চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন, যেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ইউরেনিয়াম না সমৃদ্ধ করার শর্ত মানতে হয়েছিল।

তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মার্কিন কংগ্রেস এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বেসামরিক ব্যবহারের পাশাপাশি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের এই সক্ষমতা ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতেও ব্যবহার করা সম্ভব, যা অঞ্চলে অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান পূর্বে জানিয়েছিলেন যে ইরান পারমাণবিক বোমার অধিকারী হলে সৌদি আরবও একই পথে হাঁটবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চুক্তির অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যৌথ পর্যালোচনায় যুক্তরাষ্ট্র আপত্তি জানালে পরবর্তী ১০ বছর সৌদি আরব নিজস্ব বা অন্য কোনো দেশের সহায়তায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে না। রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত মার্কিন কংগ্রেসে অনুমোদনের জন্য চুক্তিটি উপস্থাপন করা হবে এবং এতে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পূর্বশর্তটি বাদ দেওয়া হয়েছে।

source: Azadir Dak

Back to top button