সর্বশেষ

মেসিকে আটকানো কঠিন হবে

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের মধ্যে একটি ক্লাসিক ম্যাচ দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব। বিশ্বমঞ্চে এই দুদলের মুখোমুখি হওয়া মানেই মাঠের ভেতর ও বাইরে উন্মাদনা, পুরোনো ইতিহাসের রোমন্থন আর হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া। উত্তেজনাপূর্ণ, রোমাঞ্চকর ও স্মরণীয় একটি ম্যাচের সামনে দাঁড়িয়ে আমরা। এবারের লড়াইটা শুধু দুটি দেশের নয়, এটি হতে যাচ্ছে ট্যাকটিকস, স্নায়ু আর একজন অতিমানবের বিপক্ষে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের যুদ্ধ। আমি লিওনেল মেসির কথাই বলছি। আমি মনে-প্রাণে চাইব আমার দেশ ইংল্যান্ড ফাইনালে উঠুক। যদি বাস্তবতার বিবেচনা করি, তাহলে সত্যি বলতে—সম্ভবত সেমিফাইনালেই ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ যাত্রা সমাপ্তি ঘটবে। আর্জেন্টিনা ভিন্ন মাত্রার আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলছে। ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় বাধা ও ভয়ের নাম মেসি। এবারের আসরে তার অবিশ্বাস্য ও অতিমানবীয় পারফরম্যান্স দেখছে বিশ্ব। মেসি যখন এই ধরনের ফর্মে থাকে, সে সবকিছু বদলে দিতে পারে নিমিষেই। আপনি পুরো সপ্তাহ প্রস্তুতি নিতে পারেন। কিন্তু যে মুহূর্তে অর্ধ গজের মধ্যে বল পেয়ে যাবে মেসি, তখন ম্যাচটাই তার হবে। আর্জেন্টিনার পুরো দলটিই এখন মেসির চারপাশে আবর্তিত হচ্ছে। তিনি যেভাবে পুরো খেলাটা নিয়ন্ত্রণ করছেন, তাতে আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা উজ্জ্বল।
ইংল্যান্ড দলেও মানসম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে। তবে এই দলের কাউকেই আমি দেখছি না যে, পুরো ৯০ মিনিট মেসিকে থামিয়ে রাখতে পারবে। আপনি তাকে মার্ক করে ম্যাচের বাইরে রাখতে পারবেন না। আপনি শুধু তার খারাপ একটি দিনের আশায় থাকতে পারেন। আর এটাই হলো বাস্তবতা। মানুষ এটা অন্যভাবে নিলেও এটাই সঠিক। এটা প্রশংসার বিষয়। প্রায় দুই দশক ধরে বড় দলগুলোর বিপক্ষে মেসি এই কাজটাই করে আসছে। যদি ইংল্যান্ড তাকে একবার স্পেস দেয়, তাহলে মাশুল দিতে হবে। তবে আমি চাই ইংল্যান্ড আমাকে ভুল প্রমাণ করুক। কারণ এটি আমার দেশ। আমার কাছে মনে হয়, আর্জেন্টিনা যদি তাদের সেরা খেলাটার কাছাকাছিও খেলে, তারা ফাইনালে যাবে। কারণ, মেসির পাঁচটি সুযোগের প্রয়োজন নেই, তার জন্য একটি সুযোগই যথেষ্ট। ইংল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মেসিকে বল রিসিভ করতে না দেওয়া। মাঝমাঠ থেকে মেসির কাছে বল যাওয়ার যে সাপ্লাই লাইন, সেটি কেটে দিতে হবে। প্রতি মুহূর্তের জন্য রক্ষণভাগকে সজাগ থাকতে হবে। কারণ মেসি এমন একজন খেলোয়াড়, যিনি পুরো ম্যাচে হয়তো ৮০ মিনিট হেঁটে বেড়াবেন, আপনাকে মনে করাবেন তিনি খেলায় নেই। কিন্তু বাকি ১০ মিনিটে তিনি এমন মুভ তৈরি করবেন, যা ম্যাচটা হাত থেকে কেড়ে নেবে। আমি করে করি, আরেকটি স্মরণীয় রাত হতে যাচ্ছে, যা মানুষ অনেক দিন মনে রাখবে।

source: Daily Amar Desh

Back to top button