News
বাংলাদেশ জেলের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ, নতুন নামের প্রস্তাব

কারাগারের মূল দর্শনকে আরও সংশোধন ও পুনর্বাসনমুখী করতে ‘বাংলাদেশ জেল’ নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নাম প্রস্তাব করা হয়েছে ‘Custodial and Correction Service Bangladesh’। এ বিষয়ে নীতিগত কার্যক্রমও চলছে বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরে সমসাময়িক ঘটনা ও কারা অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
কারা মহাপরিদর্শক বলেন, বর্তমান সময়ের প্রয়োজন ও আধুনিক কারা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারা বিভাগের আইন ও বিধিবিধানকে যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘Custodial and Correction Service Act-2025’-এর খসড়া প্রণয়ন করে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে কারা বিভাগের দায়িত্ব নেওয়ার পর কারা ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, মানবিক, স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কারাগারের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার শুরু হয়েছে বলে জানান মোতাহের হোসেন। এর মধ্যে রয়েছে এআই-নির্ভর সিসিটিভি, বডি ক্যামেরা, বডি স্ক্যানার, লাগেজ স্ক্যানার, মোবাইল ডিটেক্টর, গ্রাউন্ড সুইপিং মেশিন ও মোবাইল জ্যামিং সিস্টেম।
গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কারা সদস্যদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারাগারগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থায় এআই-নির্ভর সিসি ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছে। দেশের কারাগারগুলোকে কারা অধিদপ্তরের নিজস্ব ফাইবার নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য চালু করা হয়েছে ডিজিটাল অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম ও টিম ট্র্যাকার। এতে তাদের উপস্থিতি ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ আরও কার্যকর হয়েছে বলে জানান কারা মহাপরিদর্শক। প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তার পাশাপাশি বন্দি ব্যবস্থাপনাকেও ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে।
কারা মহাপরিদর্শক বলেন, তথ্য-উপাত্তভিত্তিক বন্দি ব্যবস্থাপনার জন্য Comprehensive Prisoner Database আরও সমৃদ্ধ করা হয়েছে। বন্দিদের টেলিফোন কল ও সাক্ষাৎ ব্যবস্থাও ডিজিটালাইজ করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের নজরদারি ও ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে এআই-নির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কারাগার থেকেই ভার্চুয়াল কোর্টের মাধ্যমে বন্দিদের বিচার কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে বন্দি ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে জানান তিনি।
কারা বিভাগের সংস্কার উদ্যোগের অংশ হিসেবে শুধু কারাগারের নিরাপত্তা নয়, বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন কারাগারে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় শিক্ষা, কাউন্সেলিং এবং অন্যান্য মানসিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।পরিবারের সঙ্গে বন্দিদের যোগাযোগ সহজ করতে ভিডিও কলের ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, কারাগারে মাদক প্রবেশ এবং মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে বন্দি কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারী—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন।
মাদক সংশ্লিষ্টতার ক্ষেত্রে আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কারা সদর দপ্তরে মাদক টেস্টিং মেশিন সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করবে বলে জানান তিনি।
বন্দিদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারা সদর দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মেডিকেল চেকআপের জন্য প্যাথলজি ল্যাব চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫৫ জন ডিপ্লোমা নার্সের সুপারিশ পাওয়া গেছে। তাদের পদায়নের মাধ্যমে কারাগারের স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে জানান কারা মহাপরিদর্শক। সম্প্রতি ৭৭টি অ্যাম্বুলেন্স টিঅ্যান্ডইভুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
কারা মহাপরিদর্শকের জানান, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের কারা ব্যবস্থাপনাকে ধীরে ধীরে আরও আধুনিক, মানবিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও পুনর্বাসনমুখী করা হচ্ছে। আর সেই পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই ‘বাংলাদেশ জেল’ নাম পরিবর্তন করে ‘Custodial and Correction Service Bangladesh’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
source: The Dhaka Diary