News
বর্তমান সংবিধান ও জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন-ক্ষমতায় যত পার্থক্য

আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
ইসি সচিব জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে ভোটগ্রহণ চলবে। ভোট শুরুর আগে নির্বাচনকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করবেন। এরপর শুরু হবে ভোটগ্রহণ।
বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হবে গণনা। ইসি সচিব জানান, মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে কতজন ভোট দিয়েছেন, কতটি ব্যালট বৈধ ও বাতিল হয়েছে এবং কতটি ব্যালট অব্যবহৃত রয়েছে—এসব হিসাব করা হবে। এরপর প্রার্থীদের পাওয়া বৈধ ভোট গণনা করে বেশি ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন নির্বাচনকর্তা। পরে নির্বাচন কমিশনে ফিরে ফলাফলের ভিত্তিতে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
জুলাই সনদে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঐকমত্যভিত্তিক গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রস্তাবসমূহ রয়েছে। ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং বাংলাদেশের ২৫টি রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে এতে স্বাক্ষর করে। এই সনদে রাষ্ট্রীয় কাঠামো, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও প্রশাসনিক সংস্কার সংক্রান্ত বিভিন্ন অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এটিকে সংবিধান সংস্কার হিসেবেও অভিহিত করা হয়।
বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রুপরেখা কেমন? রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কেমন।
সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন রাষ্ট্রপতি। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া সব ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কাজ করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে স্বাধীনভাবে হস্তক্ষেপের ক্ষমতা নেই। রাষ্ট্রপতিকে তার পদ থেকে অপসারণের জন্য জাতীয় সংসদের ২/৩ ভোট প্রয়োজন।
জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হলে কেমন হতো নির্বাচনের রুপরেখা? কেমন ক্ষমতার অধিকারী হতেন রাষ্ট্রপতি।
দ্বিকক্ষ সংসদের সদস্যদের গোপন ব্যালটে নির্বাচিত হতেন রাষ্ট্রপতি। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ কমিশনে নিয়োগ দিতে পারতেন। ক্ষমার আবেদন বিবেচনার আগে অভিযোগকারী বা ভুক্তভোগীর পরিবারের সম্মতি নিতে হতেন রাষ্ট্রপতিকে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স রাখার সুযোগ থাকতো। রাষ্ট্রপতিকে তার পদ থেকে অপসারণের জন্য নিম্নকক্ষে ২/৩ ভোটের পর উচ্চকক্ষেও ২/৩ ভোট প্রয়োজন।
১৯৯১ সালের পর এবারই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন
সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯১ সালে। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।
এরপর প্রতিবার ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাভুটির প্রয়োজন হয়নি। ফলে ১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর বিপরীতে বিরোধী জোটের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ কারণে এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন রাজনৈতিকভাবেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
source: The Dhaka Diary